এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক: দেশের এভিয়েশন, পর্যটন ও লজিস্টিকস খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বেঙ্গল এয়ারলিফট লিমিটেড। এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল খাতে নতুন ভ্যালু-অ্যাডেড সেবা, ইনবাউন্ড ট্যুরিজম, অনলাইন টিকিট বিক্রি, ওয়্যারহাউজিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাসহ একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এভিয়েশন ও লজিস্টিকসের পাশাপাশি টেক্সটাইল, ওয়্যারহাউজিং এবং আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সেবাসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম রয়েছে বেঙ্গল এয়ারলিফটের। নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ আরও শক্তিশালী করে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি দ্য বাংলাদেশ মনিটর-এর সঙ্গে আলাপকালে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বেঙ্গল এয়ারলিফট লিমিটেডের গ্রুপ ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার বাহাউদ্দিন মিয়া।
দেশের এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল খাতকে ঘিরে আরও ভ্যালু-অ্যাডেড সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে বেঙ্গল এয়ারলিফট। প্রতিষ্ঠানটি এমন সেবা গড়ে তুলতে চায়, যা এয়ারলাইনস ও যাত্রী—উভয়ের জন্যই ভ্রমণসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে আরও সহজ করতে সহায়তা করবে।
এর অংশ হিসেবে অনলাইন পোর্টাল এবং সরাসরি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশি যাত্রীদের বিদেশ ভ্রমণের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের ডিজিটাল ও সরাসরি বিক্রয়ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে যাত্রীরা টিকিট ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা আরও সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শুধু দেশের যাত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ নয়, বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করতেও কার্যক্রম বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
এ জন্য বিদেশি পর্যটকদের উপযোগী ইনবাউন্ড ট্যুরিজম প্যাকেজ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিদেশ ভ্রমণের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ইকোট্যুরিজম গন্তব্যগুলোকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বেঙ্গল এয়ারলিফটের।
এভিয়েশন খাতে কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে ভবিষ্যতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিমানবন্দর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যাত্রী ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে উড়োজাহাজের বিভিন্ন গ্রাউন্ড সাপোর্ট কার্যক্রম এর সঙ্গে যুক্ত।
এই খাতে কার্যক্রম শুরু হলে বেঙ্গল এয়ারলিফটের বিদ্যমান এভিয়েশন ব্যবসার সঙ্গে নতুন একটি সেবার সংযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।
লজিস্টিকস ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে নতুন একটি যৌথ উদ্যোগের ওয়্যারহাউজ নির্মাণ করছে বেঙ্গল এয়ারলিফট।
ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও পদ্মা সেতুর কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানে স্থাপনাটি গড়ে তোলা হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগে পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এই অবস্থান ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
নতুন ওয়্যারহাউজটি চালু হলে বেঙ্গল এয়ারলিফটের পণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও সামগ্রিক লজিস্টিকস সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতগুলোকে একই ব্যবসায়িক কাঠামোর মধ্যে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে চায় বেঙ্গল এয়ারলিফট।
এয়ারলাইনস ও ট্রাভেল সেবা, পর্যটন, ওয়্যারহাউজিং, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার ও লজিস্টিকসের মতো কার্যক্রমের মধ্যে ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী হলে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আরও সমন্বিত সেবা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
নতুন ওয়্যারহাউজ, এভিয়েশন ও ট্রাভেল খাতে ভ্যালু-অ্যাডেড সেবা, ইনবাউন্ড ও অভ্যন্তরীণ পর্যটন কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিকাশমান এভিয়েশন, পর্যটন ও লজিস্টিকস খাতে নিজেদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়াতে চায় বেঙ্গল এয়ারলিফট।
মন্তব্য করুন