এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সাত দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নির্দেশনায় ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা দ্রুত যাত্রীদের জানানো, পুনঃবুকিং ও অর্থ ফেরতসংক্রান্ত তথ্য প্রদান, ভিসা জটিলতায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতেও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটছে। এ অবস্থায় দেশটিতে সরাসরি কিংবা ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
রিয়াদ বিমানবন্দরসংক্রান্ত আগের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছিল, বিমানবন্দরটি ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর বন্ধ, ফ্লাইট বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে অবহিত করতে হবে। এ জন্য এসএমএস, টেলিফোন কল, ইমেইল, বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিবর্তিত ফ্লাইটের সময়, টিকিট পুনঃবুকিং, অর্থ ফেরত এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে যাত্রীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত না করে যাত্রীদের বিমানবন্দরে যেতে বলা যাবে না।
ফ্লাইট বিঘ্নের বিষয়টি না জেনে কিংবা আগেই যেসব যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বেবিচক।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, হালকা খাবার, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। বয়স্ক যাত্রী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীকে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না। প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং তাঁদের সঠিক, স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে হবে।
ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের কারণে কোনো যাত্রীর ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং অন্যান্য উপযুক্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে যাত্রীদের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
ফ্লাইট বিঘ্নসংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে পর্যাপ্ত সহায়ক কর্মীসহ একজন দায়িত্বশীল ফোকাল পয়েন্ট মনোনীত করতে হবে।
ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা অবিলম্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন চলাকালে মনোনীত কর্মকর্তাকে যোগাযোগের জন্য সহজলভ্য থাকতে হবে।
যাত্রীদের সহায়তা, ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য প্রদান এবং পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতেও বলা হয়েছে।
বেবিচক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশনা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, সময়মতো তথ্য প্রদান এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ।
নির্দেশনার অনুলিপি বিমানবন্দরের এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটির (এওসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত বিতরণ তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এয়ার আরাবিয়া, এয়ার এশিয়া ও এয়ার চায়নার প্রতিনিধিদের নাম রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী এবং দেশটির বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্য গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: নির্বাহী পরিচালকের দপ্তর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
মন্তব্য করুন