এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারে আগের সতর্কতা কিছুটা শিথিল করেছে European Union Aviation Safety Agency (EASA)। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুরো আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরিবর্তে এখন মূলত পারস্য উপসাগরের জলসীমার ওপরের আকাশপথে ফ্লাইট পরিচালনা না করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন অপারেটরদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নির্দেশনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
একই সঙ্গে দেশগুলোর স্থলভাগের ওপর দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং হালনাগাদ risk assessment বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। তবে ইরান, ইরাক ও লেবাননের আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনা না করার সুপারিশ বহাল রেখেছে সংস্থাটি।
EASA-এর সংশোধিত Conflict Zone Information Bulletin (CZIB-2026-07R2) অনুযায়ী, Bahrain FIR, Kuwait FIR, Doha FIR এবং Emirates FIR-এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের জলসীমার ওপর দিয়ে সব উচ্চতায় ফ্লাইট পরিচালনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট FIR-এর কোনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের arrival বা departure-এর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে, হালনাগাদ risk assessment ও প্রয়োজনীয় mitigation ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এসব এলাকার সীমিত অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থলভাগের ওপরের আকাশসীমা পুরোপুরি এড়িয়ে চলার নির্দেশনা নেই। সেখানে ফ্লাইট পরিচালনার সময় সম্ভাব্য missile ও drone activity, air-defence operation এবং falling debris-এর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে EASA।
ওমানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট একটি অঞ্চল নিয়ে কঠোর সতর্কতা রয়েছে।
EASA বলেছে, Muscat FIR-এর আওতায় Gulf of Oman-এর জলসীমায় 58°E longitude-এর পশ্চিম অংশে সব উচ্চতায় ফ্লাইট পরিচালনা না করতে।
তবে ওমানের স্থলভাগের ওপরের আকাশসীমার ক্ষেত্রে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরিবর্তে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ রয়েছে।
অর্থাৎ নতুন নির্দেশনায় Gulf region-এর পুরো FIR বন্ধ বা এড়িয়ে চলার পরিবর্তে EASA নির্দিষ্ট উচ্চঝুঁকির maritime airspace-কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছে।
EASA-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল।
বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে উত্তেজনা, বাণিজ্যিক জাহাজে পুনরাবৃত্ত হামলা এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক কার্যক্রমের কারণে পারস্য উপসাগরের জলসীমার ওপরের আকাশপথে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
এ ছাড়া এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা থাকায় missile ও drone attack-এর ঝুঁকির বিষয়টিও EASA-এর মূল্যায়নে রয়েছে।
বেসামরিক উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে শুধু সরাসরি হামলাই ঝুঁকি নয়। সক্রিয় air-defence system, missile interception, ভুলভাবে উড়োজাহাজ শনাক্ত করা এবং আকাশে প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষও civil aviation-এর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
Jordan-এর Amman FIR নিয়ে আগের সতর্কতাও সংশোধন করেছে EASA। সংস্থাটি বলছে, জুলাইয়ে দেশটির আকাশসীমায় সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। Iranian missile ও drone activity এবং air-defence system সক্রিয় থাকার কারণে civil aircraft ভুলভাবে শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি missile overflight, interception এবং falling debris-এর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু আগস্টে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং ওই সময়ে kinetic military activity দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে EASA। এ কারণে জর্ডানের পুরো আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনা না করার আগের সুপারিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারপরও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত Jordanian airspace ব্যবহারের সময় এয়ারলাইনগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে তিন দেশের ক্ষেত্রে EASA এখনো কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
Iran-এর Tehran FIR, Iraq-এর Baghdad FIR এবং Lebanon-এর Beirut FIR-এ সব উচ্চতা ও flight level-এ ফ্লাইট পরিচালনা না করার সুপারিশ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে।
ইরানের ক্ষেত্রে চলমান সামরিক সংঘাত ও সংশ্লিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রমকে ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের আকাশসীমায়ও সামরিক কার্যক্রম ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার ঝুঁকি রয়েছে।
লেবাননের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব civil aviation-এর জন্য উচ্চঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে EASA-এর মূল্যায়ন।
EASA-এর নতুন নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সতর্কতা শিথিল হওয়াকে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি অপারেটরকে হালনাগাদ security risk assessment এবং উচ্চমাত্রার contingency planning বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্বল্প নোটিশে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণের প্রস্তুতিও রাখতে হবে।
EASA-এর Conflict Zone Information Bulletin মূলত civil aviation operator-দের জন্য risk-based recommendation। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের নিজস্ব NOTAM, airspace restriction এবং জাতীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাও ফ্লাইট পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হয়।
ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক air corridor মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে গেছে। Dubai, Abu Dhabi, Doha, Bahrain ও Kuwait একই সঙ্গে বড় আন্তর্জাতিক aviation market এবং transit point।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বড় একটি আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে হলে এয়ারলাইনগুলোকে দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হতে পারে। এতে flight time ও fuel burn বাড়তে পারে, পাশাপাশি crew planning এবং aircraft scheduling-এও প্রভাব পড়তে পারে।
সংশোধিত নির্দেশনায় পুরো Gulf airspace-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট maritime area-কে উচ্চঝুঁকির অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করায় এয়ারলাইনগুলোর route planning-এ আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয়তা তৈরি হতে পারে।
তবে EASA স্পষ্ট করেছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সংস্থাটি ইউরোপীয় কমিশন ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং ঝুঁকির মাত্রা পরিবর্তিত হলে বর্তমান নির্দেশনাও আবার সংশোধন করা হতে পারে।
সূত্র: European Union Aviation Safety Agency (EASA)
মন্তব্য করুন