এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হলো জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–নারিতা সরাসরি ফ্লাইট। সরকারের আশা, এই রুট পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে যাত্রী যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সোমবার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা–নারিতা রুট পুনরায় চালু উপলক্ষে আয়োজিত মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইটটির উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি বলেন, ভবিষ্যতে এই রুট আবার বন্ধ করার প্রশ্ন আসে না। এবার রুটটি লাভজনক হবে বলে সরকার আশা করছে।
তিনি জানান, উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা রুটটির যাত্রীচাহিদার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক। সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
আফরোজা খানম বলেন, ঢাকা–নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরাসরি এই বিমান যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, ঢাকা–নারিতা সরাসরি ফ্লাইট শুধু যাত্রী পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব রয়েছে। ফলে নিয়মিত সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ করতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি বলেন, জাপানে বসবাসরত প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অভিবাসীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে রুটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে যাত্রীচাহিদা বাড়লে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের যাত্রীচাহিদা পূরণে শুধু বোয়িং নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের উড়োজাহাজও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উড়োজাহাজ সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনায় সমস্যা তৈরি না হয়।
প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ঢাকা–নারিতা বিমান যোগাযোগের ইতিহাস তুলে ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, উড়োজাহাজ সংকট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ–জাপান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে ঢাকা–নারিতা রুট চালু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় রুটটি আবার যাত্রীদের জন্য চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জাপানগামী যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফিতা কেটে ঢাকা–নারিতা রুটে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১ জুলাই ঢাকা–নারিতা সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এক বছরের বেশি সময় এই রুটে বিমানের সরাসরি সেবা বন্ধ ছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় চালু হওয়া রুটের প্রথম ফ্লাইট বিজি-৩৭৬ ২৭ জুলাই দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাপানের নারিতার উদ্দেশে যাত্রা করে।
ঢাকা–নারিতা সরাসরি ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা এখন মূলত যাত্রীচাহিদা, উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা এবং রুটটির বাণিজ্যিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। তবে উদ্বোধনী পর্যায়ে বুকিংয়ের ইতিবাচক সাড়া রুটটির ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছে সরকার।
নিয়মিত ও টেকসইভাবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার পাশাপাশি বাংলাদেশ–জাপানের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগে ঢাকা–নারিতা রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
মন্তব্য করুন