aviation
প্রকাশিত: 29 September 2026, 10:02:37 Am
অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার, এভিয়েশনকর্মীদের ড্রাগ-অ্যালকোহল পরীক্ষায় কড়াকড়ি

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং এভিয়েশন সেফটি আরও শক্তিশালী করতে সমন্বিত বহু-সংস্থা ব্যবস্থা জোরদার করছে মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে নিরাপত্তা-সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা এভিয়েশন কর্মীদের অ্যালকোহল ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি বাড়িয়েছে দেশটির Civil Aviation Authority of Malaysia (CAAM)।

নতুন নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন অপারেটরদের সক্রিয় ফ্লাইট ও কেবিন ক্রুর শতভাগকে ড্রাগ টেস্টের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি random ও surprise testing বাড়ানো এবং কোনো কর্মীর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাৎক্ষণিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বহু সংস্থার সমন্বয়

মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ ইজানি গনি জানিয়েছেন, বিমানবন্দর নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় National Immigration Command Centre (NICC), স্বরাষ্ট্র ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ টেকনিক্যাল কমিটি, Malaysian Border Control and Protection Agency, CAAM, পুলিশ, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।

মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টসের মতে, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে security, immigration, customs, border protection ও aviation safety—প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদা সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে পড়তে পারে। দায়িত্ব ও command structure পরিষ্কার থাকলে একই কাজ একাধিক সংস্থার মাধ্যমে হওয়ার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

বিমানবন্দর অপারেটরের দায়িত্ব আরও নির্দিষ্ট করার উদ্যোগ

Malaysia Airports বলছে, সমন্বিত ব্যবস্থার উদ্দেশ্য শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানো নয়; বরং কোন সংস্থা কোন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্য দায়ী, সেটি স্পষ্ট করা।

এতে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান terminal operation, airside safety, passenger facilitation এবং নিরাপদ ও দক্ষ airport operation-এর ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।

অন্যদিকে border security, immigration enforcement, customs control ও law enforcement-এর মতো দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নিজ নিজ এখতিয়ারের মধ্যে পরিচালনা করবে।

শতভাগ সক্রিয় ফ্লাইট ও কেবিন ক্রুর ড্রাগ টেস্ট

বিমানবন্দর নিরাপত্তার পাশাপাশি aviation safety-sensitive personnel-এর ওপরও নজরদারি বাড়িয়েছে CAAM।

গত ৭ আগস্ট জারি করা Safety Directive 02/2026 অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার air operator-দের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সক্রিয় flight crew এবং cabin crew-এর ১০০ শতাংশকে drug screening-এর আওতায় আনতে হবে।

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিরাপত্তা-সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মী যেন মাদকদ্রব্যের প্রভাবে দায়িত্ব পালন না করেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা যায়।

তবে শতভাগ screening মানে প্রতিটি ফ্লাইটের আগে প্রত্যেক পাইলট ও কেবিন ক্রুকে পরীক্ষা করা নয়। নির্দেশনাটি নির্ধারিত compliance period-এর মধ্যে সক্রিয় crew population-এর সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে।

বাড়ছে আকস্মিক অ্যালকোহল ও ড্রাগ টেস্ট

শুধু নির্ধারিত screening-এর ওপর নির্ভর না করে unannounced ও random alcohol and drug testing-এর সংখ্যাও বাড়াতে বলা হয়েছে।

কোনো কর্মীর আচরণ, শারীরিক অবস্থা বা দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

এ ধরনের ‘for-cause testing’ aviation safety management-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাইলট, কেবিন ক্রু বা অন্যান্য safety-sensitive employee-এর কর্মক্ষমতার ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়, পুরো flight operation-এর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিরাপত্তা পাস দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি

মালয়েশিয়ার নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগ শুধু cockpit ও cabin crew-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বিমানবন্দরের restricted বা security-sensitive এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কর্মীদের নিয়োগ, background verification, security pass issuance এবং periodic re-screening আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরের airside ও restricted zone-এ airline employee ছাড়াও ground handler, maintenance personnel, catering staff, cargo worker এবং বিভিন্ন contractor কাজ করেন। ফলে access control দুর্বল হলে সেটি insider threat-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ কারণে পরিচয় যাচাই এবং কে কোন এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন—সেটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা airport security-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

আকস্মিক পরিদর্শন করবে CAAM

CAAM প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক ক্যাপ্টেন নোরাজমান মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা বাস্তবে কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে তা শুধু এয়ারলাইনগুলোর নিজস্ব প্রতিবেদনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে না।

CAAM risk-based surveillance, surprise inspection এবং targeted audit-এর মাধ্যমে compliance পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের drug ও alcohol testing record-ও পরীক্ষা করা হতে পারে।

ফলে নতুন নির্দেশনার সঙ্গে এয়ারলাইনগুলোর জন্য regulatory oversight-ও বাড়ছে।

Safety ও Security—দুই ক্ষেত্রেই নজর

মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে aviation-এর দুটি আলাদা কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত বিষয় একসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে—safety এবং security।

Drug বা alcohol-এর প্রভাবে কোনো পাইলট বা safety-sensitive employee দায়িত্ব পালন করলে সেটি মূলত aviation safety risk। অন্যদিকে অননুমোদিত ব্যক্তি restricted area-তে প্রবেশ, অবৈধ পণ্য পরিবহন বা বিমানবন্দর অবকাঠামোর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড aviation security-এর আওতায় পড়ে।

নতুন ব্যবস্থায় crew fitness থেকে শুরু করে airport access control, passenger screening, border protection এবং law-enforcement coordination—একাধিক স্তরে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

যাত্রী স্ক্রিনিং থেকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ—একই নিরাপত্তা কাঠামো

আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শুধু যাত্রীর লাগেজ স্ক্যানিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। Passenger ও crew screening, employee vetting, restricted-area access, immigration, customs, cargo security এবং intelligence sharing—সবগুলো স্তর কার্যকর থাকলেই একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হয়।

মালয়েশিয়ার নতুন multi-agency approach-এর লক্ষ্যও এসব দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।

বিশেষ করে বড় আন্তর্জাতিক hub-এ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী, কর্মী, যানবাহন, লাগেজ ও cargo চলাচল করায় একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

এয়ারলাইনের ওপরও বাড়বে কমপ্লায়েন্সের চাপ

CAAM-এর নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে এয়ারলাইনগুলোকেও নিজেদের internal compliance system শক্তিশালী করতে হবে।

শতভাগ সক্রিয় flight ও cabin crew-এর drug screening সম্পন্ন করা, random testing programme পরিচালনা, পরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ এবং regulator-এর audit-এর জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা—সবই অপারেটরদের দায়িত্বের অংশ হবে।

তবে এসব ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং safety-sensitive দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দায়িত্ব পালনের সময় প্রয়োজনীয় fitness standard বজায় রাখছেন কি না, তা নিশ্চিত করা।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের মতে, একটি ফ্লাইটের নিরাপত্তা শুধু উড়োজাহাজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। পাইলট, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড স্টাফ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মীর পেশাদারিত্ব, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং জবাবদিহিতাও নিরাপদ বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সূত্র: Civil Aviation Authority of Malaysia (CAAM) ও Malaysia Airports

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় ড্রোন কারখানা, আন্তর্জাতিক বিম

1

মাউন্ট এটনার অগ্ন্যুৎপাত, কাতানিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত

2

আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হচ্ছে চট্টগ্রাম, ১৮ মাসের ফাস্ট-ট্র্যাক

3

বিমানের ৯ পদে লিখিত পরীক্ষা ২৬ সেপ্টেম্বর

4

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ১১ দফা সিদ্ধান্ত

5

এক ফ্লাইটের ৭ যাত্রীর ব্যাগে বিদেশি মদের চালান, শাহজালালে আট

6

এক যাত্রীর সঙ্গে ৫-১০ স্বজন: বাংলাদেশি সংস্কৃতির চাপ সামলাতে

7

৭ নভেম্বর থেকে দাম্মামে বিমানের ফ্লাইট চালু, রিয়াদ রুটে স্থগ

8

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে চীনের সঙ্গে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত:

9

২০২৫ সালের বিমানবন্দরের পুরোনো ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেব

10

বিটিটিএফ ২০২৬-এর প্লাটিনাম স্পনসর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর

11

AirAsia-এর অর্থসংকটে সরকারি সহায়তা নিয়ে আলোচনা

12

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী মেন

13

আরও ১১ বোয়িং কেনার পথে বিমান, নিউইয়র্কে চুক্তির প্রস্তুতি

14

বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে চায় গ্রিস, নবায়ন হচ্ছে শ্রম চুক

15

নিরাপদ বিমান চলাচলে দক্ষ জনবল গড়তে বেবিচকের এটিসি বেসিক কোর্

16

সৌদি আরব যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে আটক অভিনেতা ডন, পাঠানো হলো আ

17

জমজমের পানি দিতে বিলম্ব, বিমানের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভ

18

২৫ আগস্ট প্রস্তাব দেবে জাপানি কনসোর্টিয়াম, সেপ্টেম্বরের শেষে

19

ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত চালুর পথে কারাকাসের সিমন বলিভ

20