এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার Simón Bolívar International Airport-এ বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান রানওয়ের মেরামত চলাকালে সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করে ধাপে ধাপে যাত্রীবাহী ফ্লাইট ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাস ও La Guaira-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। Simón Bolívar International Airport-ও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছিল।
বিমানবন্দরটির প্রধান রানওয়ের asphalt surface-এ গুরুতর ফাটল তৈরি হয়। পাশাপাশি টার্মিনালের বিভিন্ন অংশেও ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত রানওয়ে পুনরায় নিরাপদভাবে ব্যবহারের উপযোগী করতে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা এবং মেরামতের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
ডেলসি রদ্রিগেজ ৬ জুলাই বিমানবন্দর পরিদর্শনের পর Plan Alterno de Pista বা বিকল্প রানওয়ে পরিকল্পনা কার্যকরের নির্দেশ দেন। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রধান রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ মেরামত শেষ হওয়ার আগেই সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করে সীমিত আকারে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ফেরানো।
ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দরটি মানবিক সহায়তা ও জরুরি কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে cargo ramp মেরামত করে সীমিত কার্গো ফ্লাইটও অনুমোদন দেওয়া হয়।
ভূমিকম্পের প্রায় ১০ সপ্তাহ পর বিমানবন্দরটিতে সীমিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। যাত্রী ব্যবস্থাপনার জন্য অস্থায়ী অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Simón Bolívar International Airport শুধু কারাকাসের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নয়, ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরুদ্ধার দেশটির যাত্রী পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কার্গো ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ভূমিকম্পের পর হতাহতের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি হিসাবে সংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ের ৩,৬৮৫ মৃত্যুর সংখ্যাটিকে বর্তমান চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না; পরবর্তী প্রতিবেদনে আরও বেশি প্রাণহানির তথ্য এসেছে।
বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে প্রধান রানওয়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর মেরামত এবং নিরাপত্তা যাচাই অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা।
সূত্র: Associated Press (AP), Reuters
মন্তব্য করুন