এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন করে ২১টি বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজ যুক্ত করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ।
প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। এরপর আগামী অক্টোবরে এয়ারবাসের সঙ্গে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়ন কাঠামো ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে এয়ারবাসের প্রস্তাবিত প্যাকেজে চারটি A350-900 এবং ছয়টি A321neo উড়োজাহাজ থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বিমান। ওই চুক্তির আওতায় রয়েছে আটটি Boeing 787-10 Dreamliner, দুটি Boeing 787-9 Dreamliner এবং চারটি Boeing 737-8 MAX। এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে সরবরাহের কথা রয়েছে।
নতুন চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হলে বিমানের ইতিহাসে এটি হবে বহরের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির প্রস্তুতি এর আগেও নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় এখন তা অক্টোবরে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এয়ারবাস প্যাকেজে উড়োজাহাজের পাশাপাশি Maintenance, Repair and Overhaul (MRO) সুবিধা, পাইলট ও কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণ, ফ্লিট পরিকল্পনা এবং কেবিন ডিজাইনের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সূত্রের দাবি, এয়ারবাস মূল্যছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে এবং চুক্তি হলে ক্রয়মূল্যের একটি বড় অংশ ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থায়নের মাধ্যমে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থায়নের বিস্তারিত শর্ত ও সুদের হার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
১১টি অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে গত ৩০ আগস্ট। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের এভিয়েশন খাতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই বহর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের ওপর কোনো চাপ ছিল না। তাঁর মতে, নতুন রুট ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য বিমানের বহর বাড়ানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক যোগ্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও জানিয়েছেন, বিমানের বহরে উড়োজাহাজের ঘাটতি রয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ক্রয় প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে রয়েছে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে পাঁচটি টার্বোপ্রপ, চারটি Boeing 777, চারটি Boeing 787-8, দুটি Boeing 787-9 এবং চারটি Boeing 737-800।
তবে নতুন ও পুরোনো উড়োজাহাজ মিলিয়ে ভবিষ্যৎ বহর কীভাবে পরিচালনা করা হবে এবং পুরোনো উড়োজাহাজগুলো কখন ধাপে ধাপে বহর থেকে সরানো হবে—এ বিষয়ে বিমান এখনো বিস্তারিত সমন্বিত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে Menzies Aviation-এর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় টার্মিনালে কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও আগ্রহী। প্রস্তাবিত কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়ভাবে প্রায় এক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব সুমিতোমো করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে যাওয়ার কথা। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের সুযোগ থাকবে ওই কনসোর্টিয়ামের।
ফলে মেনজিসসহ আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
সূত্র: প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র, সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং বিমান বহর সম্প্রসারণসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য
মন্তব্য করুন