বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ হিসেবে নিজেদের ‘এক্স১’ ডেমোনস্ট্রেটরের প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে সুইডিশ-আমেরিকান উড়োজাহাজ নির্মাতা হার্ট অ্যারোস্পেস।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্ল্যাটসবার্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হার্ট অ্যারোস্পেসের ফ্লাইট-টেস্ট ঘাঁটি থেকে বুধবার উড়োজাহাজটি আকাশে ওড়ে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি ২৭ মিনিট স্থায়ী হয়।
এক্স১-এর ডানার বিস্তার ১০৬ ফুট এবং উড্ডয়নের সময় এর ওজন ছিল ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি। ফ্লাইটের সময় উড়োজাহাজটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে। এ সময় এর সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক প্রপালশন সিস্টেম থেকে এক মেগাওয়াটের বেশি শক্তি ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) দেওয়া বিশেষ এয়ারওয়ার্দিনেস সার্টিফিকেটের আওতায় পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। এতে ট্যাক্সিং, টেকঅফ, আরোহণ, আকাশে বিভিন্ন ম্যানুভার এবং অবতরণের পরীক্ষা করা হয়।
হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি, পুরো ফ্লাইটে মাত্র প্রায় ৫ ডলারের বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জেট ফুয়েলের দামের তুলনায় বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স ফোর্সলুন্ড বলেন, এক্স১-এর প্রথম ফ্লাইটের মাধ্যমে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের সমপর্যায়ের আকারে বৈদ্যুতিক ফ্লাইটের সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিমান ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে পারে।
এক্স১ মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ ডেমোনস্ট্রেটর উড়োজাহাজ। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পিত ৩০ আসনের হাইব্রিড-ইলেকট্রিক আঞ্চলিক উড়োজাহাজ ‘ইএস-৩০’-এর প্রযুক্তি যাচাইয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। ইএস-৩০ উড়োজাহাজটি এফএএর পার্ট ২৫ বিধিমালার অধীনে সার্টিফিকেশনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা ও জেএসএক্সসহ কয়েকটি এয়ারলাইন ইএস-৩০ নিয়ে আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি, বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটি ২০৩১ সালে ইএস-৩০ বাণিজ্যিক সেবায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রচলিত আঞ্চলিক উড়োজাহাজের তুলনায় এটি পরিচালন ব্যয় ৪০ শতাংশের বেশি কমাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম প্রি-প্রোডাকশন ইএস-৩০ তৈরি হচ্ছে। ২০২৮ সালে এর ফ্লাইট পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন