এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সর্বোচ্চ দুটি এয়ারবাস এ২২০-৩০০ (Airbus A220-300) উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা মালদিভিয়ান। এ লক্ষ্যে উড়োজাহাজের মালিক ও লিজদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আহ্বান করেছে সংস্থাটির মূল প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএএসএল)।
প্রকাশিত প্রস্তাব আহ্বান অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০২৭ সালের শেষ প্রান্তিকে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উড়োজাহাজ দুটি ছয় থেকে ১২ বছরের জন্য পরিচালনাভিত্তিক লিজ বা অপারেটিং লিজে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর মালদ্বীপের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। উড়োজাহাজ দুটি মালদ্বীপের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
আইএএসএলের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন উড়োজাহাজগুলোতে বিজনেস ও ইকোনমি—দুই শ্রেণির কেবিন বিন্যাস থাকতে হবে। প্রতিটি উড়োজাহাজের বিজনেস শ্রেণিতে অন্তত আটটি আসন রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
বিমান সংস্থাটির পছন্দের বিন্যাসে বিজনেস শ্রেণিতে আটটি এবং ইকোনমি শ্রেণিতে ১৩০টি আসন থাকবে। সে হিসাবে প্রতিটি উড়োজাহাজের মোট আসনসংখ্যা হবে ১৩৮টি। দুটি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হলে প্রস্তাবিত বিন্যাস অনুযায়ী বহরে মোট ২৭৬টি আসনের সক্ষমতা যুক্ত হবে।
উড়োজাহাজগুলো মালদিভিয়ানের নিজস্ব রঙ ও নকশায় সরবরাহ করতে হবে। ফলে লিজ চুক্তির অংশ হিসেবে উড়োজাহাজ প্রস্তুতকরণ ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
এয়ারবাস এ২২০-৩০০ মূলত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের উপযোগী আধুনিক ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। তুলনামূলক কম যাত্রীসংখ্যার আন্তর্জাতিক রুটে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার বিমান সংস্থাগুলোকে আসন সক্ষমতা ও পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে মালদিভিয়ান নতুন উড়োজাহাজ দুটি কোন কোন রুটে ব্যবহার করবে, তা প্রস্তাব আহ্বানে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আইএএসএল।
প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, সরবরাহের পর প্রথম ২৪ মাস, পাঁচ হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা অথবা তিন হাজার ফ্লাইট চক্রের নির্ধারিত সীমার মধ্যে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না—এমন উড়োজাহাজ চাওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপ্রত্যাশিত বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কোনো উড়োজাহাজ পরিচালনা বন্ধ রাখতে হলে লিজ ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্যিক বিমান পরিবহনে উড়োজাহাজ দীর্ঘ সময় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অচল থাকলে নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা এবং আয় উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ ধরনের শর্তের মাধ্যমে পরিচালনাগত ঝুঁকি ও অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বিমান সংস্থাটি।
লিজদাতাদের প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য তিনটি প্রধান মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে আইএএসএল।
এর মধ্যে কারিগরি উপযুক্ততার জন্য ৪০ শতাংশ, আর্থিক শর্তের জন্য ৪৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য ১৫ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ থাকবে।
আর্থিক মূল্যায়নে শুধু মাসিক লিজ ভাড়াই নয়, জামানত, উড়োজাহাজ প্রস্তুতকরণ ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল এবং চুক্তির মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়ার সম্ভাব্য খরচও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পাইলট, কেবিন ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণকর্মী ও ফ্লাইট পরিচালনাকারী কর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে আগ্রহী লিজদাতাদের উৎসাহিত করা হয়েছে। ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ পৌঁছে দেওয়ার ব্যয় বহনের বিষয়েও প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
এসব শর্ত থেকে বোঝা যায়, উড়োজাহাজ সংগ্রহের প্রাথমিক খরচের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় ও কারিগরি সহায়তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী উড়োজাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, লিজদাতা, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান মালদ্বীপের স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগামী ২৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রস্তাব জমা দিতে পারবে।
তবে দালাল ও মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ সরাসরি সংশ্লিষ্ট মালিকানা, অর্থায়ন বা লিজ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাব গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইএএসএল জানিয়েছে, জমা পড়া প্রস্তাব মূল্যায়নের পর আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা দরদাতাদের অবহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রস্তাব আহ্বান করা মানেই উড়োজাহাজ দুটি সংগ্রহের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া নয়। দরপত্র মূল্যায়ন, লিজদাতার সঙ্গে আলোচনা এবং চুক্তির শর্ত নির্ধারণের পরই সংগ্রহ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ স্পষ্ট হবে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মালদিভিয়ানের বহরে নতুন প্রজন্মের দুটি এয়ারবাস এ২২০-৩০০ উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বিমান সংস্থাটি ভবিষ্যতে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনায় আরও নমনীয়তা পেতে পারে।
তথ্যসূত্র: আইল্যান্ড এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মালদ্বীপের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রস্তাব আহ্বানের বিবরণ।
মন্তব্য করুন