এভিয়েশন বার্তা বিশেষ প্রতিনিধি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের সিটের নিচে লুকানো অবস্থায় ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস হাউস ঢাকা। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কাস্টমস হাউস ঢাকার একটি দল গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণের চালানটি উদ্ধার করে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ফ্লাই দুবাইয়ের ফ্লাইটটির একটি সিটের নিচে সন্দেহজনকভাবে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো প্যাকেট পাওয়া যায়।
প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে খোলার পর ভেতরে স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। পরে গণনা করে মোট ৮০টি বার পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
উদ্ধার করা স্বর্ণের সম্মিলিত ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি।
কাস্টমস হাউস ঢাকার হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।
ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, স্বর্ণের বারগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে উদ্ধার হয়নি। এগুলো উড়োজাহাজের একটি সিটের নিচে লুকানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ফলে কারা স্বর্ণগুলো উড়োজাহাজে রেখেছিল, কোন পর্যায়ে সেগুলো সিটের নিচে লুকানো হয়েছিল এবং বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কার মাধ্যমে সেগুলো বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তবে এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনায় উড়োজাহাজের সিটের নিচে স্বর্ণ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কোনো যাত্রী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী কিংবা এয়ারলাইন্সের অন্য কোনো কর্মী এতে জড়িত ছিলেন। তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কারও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।
তদন্তে স্বর্ণের উৎস, উড়োজাহাজে কীভাবে চালানটি প্রবেশ করল, এর সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীদের ব্যাগেজের পাশাপাশি উড়োজাহাজ ও কার্গো এলাকায় স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, এয়ারসাইড নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সূত্র: কাস্টমস হাউস ঢাকা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র
মন্তব্য করুন