দেশের বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সহজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ লক্ষ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের (Ground Handling Service Provider—GHSP) লাইসেন্স সংক্রান্ত বিমান চলাচল নির্দেশনা (এএনও) সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিদেশি কোম্পানির জন্য বাংলাদেশি অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠন এবং ওই প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ মালিকানা বাংলাদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার শর্তও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ অনুমতি থাকা যেকোনো বাংলাদেশি, বিদেশি বা যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান সরাসরি GHSP লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিকে বাংলাদেশে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিতে হলে স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গঠন করতে হয়। ওই যৌথ উদ্যোগে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ শেয়ার বাংলাদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার শর্তও রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এসব শর্ত শিথিল করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানির জন্য বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তৃতীয় টার্মিনালে বিদেশি কোনো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে যুক্ত করা হলে তাদের বাংলাদেশে GHSP লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমান বিধানে স্থানীয় মালিকানার বাধ্যবাধকতার কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় অংশীদার নিয়ে যৌথ উদ্যোগ করতে হতো। প্রস্তাবিত সংশোধন কার্যকর হলে সেই বাধা থাকবে না এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে।
প্রস্তাবিত এএনও সংশোধনীতে যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি যোগ্যতার বিষয়েও নতুন বিধান রাখা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানে যে অংশীদারের শেয়ার বেশি থাকবে, সেই অংশীদারের কারিগরি যোগ্যতাকে প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকেও GHSP লাইসেন্সের আওতায় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান বিধানে বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে মূলত যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও নতুন প্রস্তাবে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ও যৌথ উদ্যোগ—দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানকেই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট এবং প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই, পরিদর্শন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াতেও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পরিদর্শন দলের গঠন ও কার্যক্রমের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা নিশ্চিত করা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদিত হলে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন