এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় ধরনের বহর সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। নিজেদের বহরে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি এয়ারলাইন্সটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া মো. নুরুদ্দিন অপু, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘিসহ কূটনীতিক, এভিয়েশন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
একসঙ্গে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাংলাদেশের বেসরকারি বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে একটি বড় সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য চালু এবং বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। বহর বড় হলে রুট পরিকল্পনায় নমনীয়তা বাড়ে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় বিকল্প উড়োজাহাজ ব্যবহারের সক্ষমতাও শক্তিশালী হয়।
বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনও বাড়ছে।
ইউএস-বাংলার ২১ উড়োজাহাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতাও বাড়তে পারে।
তবে বহর সম্প্রসারণের সুফল পেতে শুধু নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করাই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন হবে প্রশিক্ষিত পাইলট ও কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, পর্যাপ্ত গ্রাউন্ড সাপোর্ট এবং লাভজনক রুট পরিকল্পনা।
একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজের ধরন, অর্থায়ন বা লিজ কাঠামো, ডেলিভারি সময়সূচি এবং কোন কোন রুটে এগুলো ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয় বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বাণিজ্যিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউএস-বাংলার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু এয়ারলাইন্সটির নিজস্ব বহর সম্প্রসারণ নয়, বরং বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অনুষ্ঠানে প্রকাশিত তথ্য
মন্তব্য করুন