এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, গবেষণা এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণে ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে পর্যটন খাতের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে গঠিত থিংকট্যাঙ্ক ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (উৎসব)।
সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদ ও উপদেষ্টাদের এক জরুরি সভায় প্রথমবারের মতো পাঁচজন নতুন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ গ্রহণ করেন।
নতুন সদস্যরা সংগঠনের সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী-এর হাতে সদস্য ফি তুলে দিয়ে উৎসবের কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন।
একই সভায় দেশের পর্যটন খাত নিয়ে গবেষণার পরিধি বাড়াতে বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল ও সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পৃথক গবেষণা এবং ঢাকায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উৎসবের সভায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক গবেষণা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের পর্যটনে দুটি গন্তব্যেরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শ্রীমঙ্গল চা-বাগান, হাওর, বনাঞ্চল ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য।
গবেষণার মাধ্যমে এসব গন্তব্যে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের প্রভাব এবং টেকসই পর্যটনের সম্ভাবনার মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে কার্যকর তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করা যায়—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও গবেষণাভিত্তিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজধানী ঢাকায় আগত দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা জানতে একটি জরিপ পরিচালনার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হলে আবাসন, পরিবহন, পর্যটন তথ্য, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের সুবিধা এবং ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, সে বিষয়ে বাস্তব চিত্র পাওয়া সম্ভব।
একই সঙ্গে বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াত, ভিসা ও ইমিগ্রেশন-পরবর্তী অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন তথ্য এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধার মতো বিষয়ও পর্যটন অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নেই।
ইনবাউন্ড অর্থাৎ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসা পর্যটক, আউটবাউন্ড অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া পর্যটক এবং দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণকারী পর্যটকদের আচরণ, চাহিদা ও প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত জরিপ পরিচালনা করা হলে পর্যটন বাজার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কোন গন্তব্যে পর্যটকের আগ্রহ বাড়ছে, কী ধরনের সেবায় ঘাটতি রয়েছে, পর্যটক কতদিন অবস্থান করছেন কিংবা কোন খাতে বেশি ব্যয় করছেন—এ ধরনের তথ্য পর্যটন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার ফলাফল যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ করা হলে তা সরকারি নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি এবং এয়ারলাইনসের জন্যও কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক বাড়ানোর ক্ষেত্রে পর্যটন পণ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
কোন দেশ থেকে কত পর্যটক বাংলাদেশে আসছেন, তাদের পছন্দের গন্তব্য কী, তারা কতদিন অবস্থান করছেন এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক রুট পরিকল্পনা ও পর্যটন বিপণনেও তা সহায়ক হতে পারে।
একইভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বিমান যোগাযোগ থাকা গন্তব্যগুলোতে পর্যটকদের ভ্রমণ প্রবণতা বিশ্লেষণ করাও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার জন্য কার্যকর তথ্য দিতে পারে।
সভায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশের পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন খাতের সরকারি-বেসরকারি অংশীজনদের মতামত এবং বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উৎসবের সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী।
এতে সংগঠনের সহসভাপতি তৌফিক রহমান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল একরাম, পরিচালক কামরুল হাসান, ট্যুর অপারেটর বোরহান উদ্দিন, পর্যটন উদ্যোক্তা সাবিনা ইয়াসমিন, পাগমার্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের নজরুল ইসলাম বাচ্চু এবং উপদেষ্টা প্রণব সাহাসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের হলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য পর্যটকের আচরণ, বাজারের চাহিদা, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং গন্তব্যভিত্তিক সমস্যার বিষয়ে ধারাবাহিক ও ব্যবহারযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে শুধু গবেষণা পরিচালনা নয়, গবেষণার ফলাফল সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, পর্যটন ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বাস্তব নীতিনির্ধারণে সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসবের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সদস্যভিত্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিয়মিত গবেষণা, জরিপ ও তথ্যনির্ভর সুপারিশের মাধ্যমে সংগঠনটি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও কার্যকর নীতিনির্ধারণে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।
সূত্র: ইউনাইটেড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (উৎসব)-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
মন্তব্য করুন