এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট এ-১ ফুয়েলের দাম এক মাসের ব্যবধানে বড় অঙ্কে বাড়ানো হয়েছে। আগস্টের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
নতুন হিসাবে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা, যা জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ২১.৮ শতাংশ বেশি।
রোববার বিইআরসির এক আদেশে নতুন মূল্যহার জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, নতুন দাম ওই দিন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী মূল্য সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত জেট ফুয়েলের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের মূল্য ০.৮৫৫৬ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১.০৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত dollar-denominated jet fuel price-ও এক মাসে প্রায় ২১.১ শতাংশ বেড়েছে।
আগস্টের এই মূল্যবৃদ্ধির আগে জেট ফুয়েলের দামে বিপরীত প্রবণতা ছিল।
মে থেকে জুলাই পর্যন্ত টানা চার দফায় দাম কমানো হয়েছিল। গত ৭ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার jet fuel-এর দাম সর্বোচ্চ ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছেছিল।
পরবর্তী কয়েক দফা সমন্বয়ে জুলাইয়ে সেটি নেমে আসে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সায়।
অর্থাৎ এপ্রিলের peak থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রতি লিটারে মোট ৯৬ টাকা ৯ পয়সা কমেছিল।
আগস্টে এক ধাপে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়লেও এপ্রিলের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় বর্তমান মূল্য এখনো ৬৭ টাকা ৫৬ পয়সা কম।
শতাংশ হিসাবে এপ্রিলের peak-এর তুলনায় আগস্টের দাম প্রায় ২৯.৮ শতাংশ কম।
ফলে আগস্টের বৃদ্ধিটি উল্লেখযোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি তুলনায় jet fuel price এখনো কয়েক মাস আগের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে যায়নি।
বিইআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত formula অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের jet fuel price, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং transportation cost বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে দেশের jet fuel price সমন্বয় করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের reference হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে Platts rate।
আগস্টের মূল্য নির্ধারণে জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের গড় Platts rate বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এর সঙ্গে dollar exchange rate এবং দেশে fuel পরিবহনের সংশ্লিষ্ট ব্যয় যুক্ত করে domestic ও international operation-এর জন্য পৃথক মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
ফলে বিশ্ববাজারে aviation fuel-এর মূল্য দ্রুত বাড়লে পরবর্তী মাসের বাংলাদেশি jet fuel price-এ তার প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজার কমলে monthly adjustment-এর মাধ্যমে স্থানীয় দাম কমারও সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে jet fuel pricing নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় airlineগুলোর অভিযোগ ছিল।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের jet fuel price-এর পার্থক্য এবং pricing mechanism নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তুলেছে aviation industry।
২০২৫ সালের মে মাসে গণশুনানির পর jet fuel price নির্ধারণের একটি পদ্ধতি চূড়ান্ত করে বিইআরসি।
এরপর আন্তর্জাতিক বাজারের Platts rate, dollar exchange rate এবং transportation cost-এর পরিবর্তনের ভিত্তিতে মাসভিত্তিক price adjustment চালু করা হয়।
এর ফলে আগের তুলনায় international market movement-এর সঙ্গে দেশের aviation fuel price-এর সম্পর্ক আরও সরাসরি হয়েছে।
তবে formula-ভিত্তিক pricing-এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি হলে airlineগুলোও অল্প সময়ের মধ্যে বাড়তি fuel cost-এর মুখে পড়তে পারে।
Jet fuel একটি airline-এর অন্যতম বড় operating expense।
Aircraft type, route distance, passenger/cargo load, weather, holding time এবং operational condition অনুযায়ী একটি flight-এ fuel consumption উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়।
তাই প্রতি লিটারে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়লেই প্রতিটি flight-এর খরচ ঠিক কত বাড়বে—একটি সাধারণ অঙ্ক দিয়ে সেটি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তবে উদাহরণ হিসেবে কোনো domestic operation-এ একটি flight-এর জন্য যদি মোট ২ হাজার লিটার fuel ব্যবহারের হিসাব ধরা হয়, তাহলে শুধু প্রতি লিটারে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বৃদ্ধির কারণে fuel expenditure প্রায় ৫৭ হাজার টাকা বেশি হতে পারে।
৩ হাজার লিটার হলে ব্যবধান দাঁড়াবে প্রায় ৮৫ হাজার ৫৯০ টাকা।
এগুলো কোনো নির্দিষ্ট airline বা route-এর actual fuel consumption নয়; মূল্যবৃদ্ধির scale বোঝানোর জন্য illustrative calculation মাত্র।
Jet fuel price বাড়ার পর যাত্রীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে—domestic airfare-ও কি বাড়বে?
Fuel cost বাড়লে airline-এর operating expense বাড়ে। ফলে দীর্ঘ সময় উচ্চ fuel price বজায় থাকলে airfare-এর ওপর upward pressure তৈরি হতে পারে।
তবে জেট ফুয়েলের দাম ২১.৮ শতাংশ বেড়েছে মানেই টিকিটের দামও একই হারে বাড়বে—এমন নয়।
Airfare নির্ধারণে fuel ছাড়াও aircraft lease বা ownership cost, maintenance, airport charges, crew cost, insurance, ground handling, passenger demand, competition এবং seat availability-এর মতো বহু বিষয় কাজ করে।
Airlineগুলো একই flight-এর সব seat একই দামে বিক্রিও করে না। Booking time ও available fare class অনুযায়ী ticket price পরিবর্তিত হয়।
ফলে আগস্টের fuel price increase-এর পর domestic airfare কতটা পরিবর্তিত হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট airlineগুলোর commercial decision এবং market demand-এর ওপর নির্ভর করবে।
Fuel price বৃদ্ধির প্রভাব সব route-এ একইভাবে অনুভূত নাও হতে পারে।
বিশেষ করে ঢাকা–যশোর, ঢাকা–বরিশাল বা অন্যান্য short-haul domestic route-এ airlineগুলোকে শুধু একে অপরের সঙ্গে নয়, উন্নত road ও rail connectivity-এর সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হয়।
এসব route-এ airfare বাড়লে price-sensitive passenger বাস বা ট্রেনের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে পারেন।
ফলে airline-এর সামনে একটি কঠিন commercial equation তৈরি হতে পারে—বাড়তি fuel cost ticket price-এ পুরোপুরি যুক্ত করলে passenger demand কমতে পারে, আবার airfare না বাড়ালে airline-এর margin কমতে পারে।
এই বাস্তবতা বাংলাদেশের domestic aviation market-এর জন্য jet fuel price-কে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
শুধু domestic operation নয়, international flight-এর জন্য duty ও VAT-free jet fuel price-ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আগে প্রতি লিটার ০.৮৫৫৬ ডলার থাকলেও আগস্টে সেটি ১.০৩৫৮ ডলার হয়েছে।
বৃদ্ধি প্রতি লিটারে ০.১৮০২ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২১.১ শতাংশ।
Long-haul aircraft একটি flight-এ বিপুল পরিমাণ fuel বহন ও ব্যবহার করে। ফলে unit price-এর ছোট পরিবর্তনও total flight cost-এ বড় অঙ্ক তৈরি করতে পারে।
তবে একটি international airline ঢাকা থেকে ঠিক কত fuel uplift করবে, তা route, aircraft, payload, fuel planning এবং পরবর্তী গন্তব্যের fuel price-সহ বিভিন্ন operational consideration-এর ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশের airline industry-তে fuel pricing দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ commercial issue।
Domestic carrier-গুলোকে aircraft lease, spare parts, maintenance এবং insurance-এর মতো অনেক ব্যয় foreign currency-তে বহন করতে হয়।
এর সঙ্গে fuel price বাড়লে operating cost-এর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে যেসব route-এ passenger demand কম অথবা airfare competition বেশি, সেখানে বাড়তি খরচ পুরোপুরি যাত্রীর ওপর স্থানান্তর করা সবসময় সম্ভব হয় না।
এ কারণে jet fuel-এর মূল্য শুধু airline-এর হিসাবের বিষয় নয়; route sustainability, frequency এবং domestic aviation growth-এর সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।
বর্তমান মূল্যকে স্থায়ী jet fuel price হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিইআরসির monthly pricing mechanism অনুযায়ী international Platts rate, dollar exchange rate এবং transportation cost পরিবর্তিত হলে পরবর্তী মাসে দাম আবার বাড়তে বা কমতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়েই তার উদাহরণ দেখা গেছে।
এপ্রিলের সর্বোচ্চ ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কয়েক দফায় মূল্য কমে জুলাইয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সায় নেমেছিল। আবার আগস্টে এক ধাপে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বেড়েছে।
এই ওঠানামা দেখাচ্ছে, দেশের aviation sector এখন international fuel market-এর price movement-এর প্রভাব তুলনামূলক দ্রুত অনুভব করছে।
আগস্টের জন্য domestic jet fuel price প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি airlineগুলোর operating cost management-এর জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, বর্তমান ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সার মূল্য এপ্রিলের peak-এর তুলনায় এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
ফলে একটি মাসের বৃদ্ধি দেখে দীর্ঘমেয়াদি trend নির্ধারণ করা যাবে না।
পরবর্তী কয়েক মাসে international Platts rate এবং dollar exchange rate কোন দিকে যায়, তার ওপর বাংলাদেশের jet fuel price-এর গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে fuel price-এর এই পরিবর্তন domestic airfare ও flight frequency-তে শেষ পর্যন্ত কতটা প্রতিফলিত হয়। আর airlineগুলোর জন্য challenge হবে fuel cost-এর ওঠানামার মধ্যেও airfare প্রতিযোগিতামূলক রেখে route operation টেকসই রাখা।
সূত্র: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) জেট ফুয়েলের মূল্য সমন্বয়সংক্রান্ত আদেশ।
মন্তব্য করুন