এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু বা পুনঃইস্যুর বিশেষ সুযোগের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসীরা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই সুবিধার আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
এর আগে এ বিশেষ সুবিধার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই সময়সীমা আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু বা পুনঃইস্যুর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এর মধ্যে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নামসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের বিষয় থাকতে পারে।
তবে কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। শুধু আবেদন করলেই চাওয়া তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে—এমন নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুযোগ দিয়ে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই একটি আদেশ জারি করা হয়েছিল।
ওই আদেশ অনুযায়ী সুবিধাটির মেয়াদ ছিল ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।
প্রবাসীদের পাসপোর্টসেবা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে।
ফলে আগের সময়সীমার মধ্যে যারা আবেদন সম্পন্ন করতে পারেননি, তারা আরও ছয় মাস সময় পাচ্ছেন।
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট শুধু আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নথি নয়। সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা, রেসিডেন্স পারমিট, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং, পরিচয় যাচাই এবং বিভিন্ন কনস্যুলার ও প্রশাসনিক কাজেও পাসপোর্টের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
পাসপোর্টের নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন কিংবা বিদেশে ব্যবহৃত অন্য নথির তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ভিসা আবেদন, ভিসা নবায়ন বা অন্য কোনো immigration process-এর সময় নথিপত্রে তথ্যের অমিল থাকলে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে বিমান টিকিটে যাত্রীর নাম পাসপোর্টে থাকা নাম অনুযায়ী দেওয়া উচিত।
পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের পর আগে কেনা বিমান টিকিট, বৈধ ভিসা কিংবা রেসিডেন্স পারমিটে পুরোনো তথ্য থাকলে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।
কারণ পাসপোর্ট সংশোধন করলেই অন্য সব নথির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয় না।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে পাসপোর্টসেবা গ্রহণ করেন।
তবে আবেদন গ্রহণের পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় supporting documents, appointment ব্যবস্থা এবং সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও যাদের পাসপোর্টে তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা সুবিধাজনক।
কারণ আবেদন জমা দেওয়ার পর নথি যাচাই, তথ্য সংশোধনের অনুমোদন এবং নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করতে নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে সামনে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, ভিসা নবায়ন, চাকরির কাগজপত্র বা রেসিডেন্স পারমিটের কাজ থাকলে পাসপোর্টের তথ্য আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগের সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে না পারা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ সুযোগটির আওতায় প্রয়োজনীয় আবেদন সম্পন্ন করার অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
মন্তব্য করুন