এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) ১ কোটি ৭৪ লাখ যাত্রী চলাচল করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যাত্রী চলাচলে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দর।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস টাইমস-এর প্রতিবেদনে চাঙ্গি বিমানবন্দরের তৃতীয় প্রান্তিকের যাত্রী পরিবহনের এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে চাঙ্গি বিমানবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৭৪ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা সামান্য বাড়লেও আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বিমানবন্দরটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান বজায় রয়েছে।
যাত্রী চলাচলের পাশাপাশি বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজ ওঠানামা এবং পণ্য পরিবহন কার্যক্রমেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের (সিএজি) তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে বিমানবন্দরটিতে মোট ৯৩ হাজার ৯০০টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে ইউরোপ, উত্তর-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যাত্রীবাজার প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে চাঙ্গি বিমানবন্দরের প্রধান পাঁচটি যাত্রীবাজার ছিল চীন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ভারত।
শীর্ষ ১০টি যাত্রীবাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ভিয়েতনামে। দেশটির সঙ্গে যাত্রী চলাচল আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চীনের বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ সময়ে চাঙ্গি বিমানবন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত পাঁচটি রুট ছিল কুয়ালালামপুর, জাকার্তা, বালির দেনপাসার, ব্যাংকক ও সাংহাই। শীর্ষ ১০টি ব্যস্ত রুটের মধ্যে টোকিও ও মেলবোর্নে যাত্রী চলাচল বেড়েছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ২ ও ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তৃতীয় প্রান্তিকে চাঙ্গি বিমানবন্দরের নেটওয়ার্কে নতুন চারটি যাত্রীবাহী এয়ারলাইনস যুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো ওমান এয়ার, সান ফুকুওক এয়ারওয়েজ, এয়ারবোর্নিও ও নাইন এয়ার।
নতুন এয়ারলাইনস যুক্ত হওয়ায় বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি আকাশপথে পণ্য পরিবহনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চাঙ্গি বিমানবন্দর।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বিমানবন্দরটি দিয়ে মোট ৫ লাখ ৭৪ হাজার টন কার্গো পরিবহন করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৮ শতাংশ বেশি।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের আমদানি-রপ্তানির চাহিদা বৃদ্ধি কার্গো পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ সময়ে বিমানবন্দরটির প্রধান পাঁচটি কার্গো বাজার ছিল চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও ভারত।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের এয়ার হাব ও কার্গো ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট লিম চিং কিয়াত জানান, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও অন্যান্য পরিচালনাগত চাপের মধ্যেও এয়ারলাইনসগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা, সম্ভাবনাময় রুট সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক এভিয়েশন হাব হিসেবে চাঙ্গির অবস্থান সুদৃঢ় করতে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: দ্য বিজনেস টাইমস
মন্তব্য করুন