এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট থেকে লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে দুই যাত্রীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর যাত্রী আচরণ ও উড্ডয়নকালীন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করা ফ্লাইটে ঘটনাটি ঘটে। দুই যাত্রীর মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে কেবিন ক্রুর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই যাত্রীকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে একজনের টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেবিন ক্রুর পাশাপাশি কয়েকজন সহযাত্রীও এগিয়ে আসেন।
ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক সংবাদগুলোর মধ্যে তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে ফ্লাইটটিকে লন্ডন থেকে বাংলাদেশগামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের প্রাথমিক বক্তব্যেও তিনি তখন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন এবং খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন।
তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে মহিউদ্দীন আহমেদ বিমান সূত্রের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ফ্লাইটটি সিলেট থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল এবং যাত্রাপথে দুই যাত্রী সংঘর্ষে জড়ান। কেবিন ক্রুর হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই কারণে ঘটনার রুট সম্পর্কে পরবর্তী নিশ্চিত তথ্যকেই Aviation Barta গুরুত্ব দিচ্ছে।
উড়োজাহাজের কেবিন একটি সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। এখানে দুই যাত্রীর শারীরিক সংঘর্ষ শুধু তাদের নিজেদের জন্য নয়, আশপাশের যাত্রী এবং কেবিন ক্রুর জন্যও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে উড়োজাহাজ যখন আকাশে থাকে, তখন যাত্রীদের অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। সংঘর্ষের সময় অন্য যাত্রী আহত হওয়া, কেবিনের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ক্রুদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে।
এই কারণেই আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে disruptive বা unruly passenger আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব শুধু খাবার পরিবেশন বা যাত্রীসেবা দেওয়া নয়। তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব কেবিন সেফটি নিশ্চিত করা।
যাত্রীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে পরিস্থিতি শান্ত করা, সংঘর্ষে জড়ানো ব্যক্তিদের আলাদা করা, প্রয়োজনে আসন পরিবর্তন করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইট ডেককে অবহিত করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনায়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর কেবিন ক্রু এগিয়ে এসে দুই যাত্রীকে আলাদা করেন বলে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ফ্লাইটে অন্য যাত্রীদের মধ্যে মারামারি বা গুরুতর বিরোধ দেখা দিলে সাধারণ যাত্রীদের নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে না পড়ে দ্রুত কেবিন ক্রুকে জানানো নিরাপদ পদ্ধতি।
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রী সঙ্গে থাকলে তাদের সংঘর্ষের স্থান থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা উচিত। কেবিন ক্রু কোনো নিরাপত্তামূলক নির্দেশ দিলে সেটি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ধারণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের চেয়ে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ফ্লাইটে নিরাপত্তা বলতে শুধু উড়োজাহাজের কারিগরি সক্ষমতা, আবহাওয়া কিংবা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বোঝায় না। যাত্রীদের আচরণও নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিমান চলাকালে ক্রুর নির্দেশ অমান্য করা, অন্য যাত্রীকে হুমকি দেওয়া বা শারীরিক সংঘর্ষে জড়ানোর মতো ঘটনা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণ হতে পারে।
তবে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ বিষয়ে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে অনুমান করা সমীচীন হবে না।
ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো বিপর্যয়ে রূপ না নিলেও উড়োজাহাজের মতো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং দ্রুত কেবিন ক্রুর হস্তক্ষেপ কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটি আবারও সামনে এনেছে।
তথ্যসূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের বক্তব্য।
মন্তব্য করুন