মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটির আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, কোনো বিদেশি সংস্থা, বিমানবন্দর বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যদি ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণ সুবিধা, জ্বালানি সরবরাহ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা কিংবা টিকিট বিক্রির সুযোগ দেয়, তাহলে তাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে অনেক দেশ ও বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে ইরানি উড়োজাহাজগুলোকে জ্বালানি, ল্যান্ডিং সুবিধা ও অন্যান্য গ্রাউন্ড সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বহু বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, উড়োজাহাজের খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে ইরানের বেসামরিক বিমান খাত আগে থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াশিংটন ইরানের বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রুটে ইরানের প্রধান বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাহান এয়ার, ইরান এয়ার এবং কিশম এয়ার। এর মধ্যে মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বিস্তৃত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম সীমিত হয়েছে। বর্তমানে চীন, ভারত, ইরাক, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে তাদের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান ইরান এয়ার ইউরোপের কয়েকটি রুট হারানোর পর সীমিত সংখ্যক আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন সক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। চীন মার্কিন পদক্ষেপকে একতরফা ও অবৈধ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সব দেশ একইভাবে এসব বিধিনিষেধ অনুসরণ করবে না। চীন ও রাশিয়ার মতো দেশ ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ চালু রাখার চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দেশটি যদি নিজস্ব আকাশসীমায় বিদেশি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক রুটের সময় ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানি যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যয়ও বাড়ছে। অনেক যাত্রী সরাসরি ফ্লাইটের পরিবর্তে তুরস্ক, ইরাক, আর্মেনিয়া বা পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশে গিয়ে সেখান থেকে সংযোগকারী ফ্লাইট ব্যবহার করছেন। এতে ইস্তাম্বুল, দোহা ও দুবাইয়ের মতো আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবগুলো বাড়তি যাত্রী পাচ্ছে।
এদিকে ইরানের সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী, চিকিৎসা নিতে যাওয়া ব্যক্তি এবং অভিবাসীরা ভ্রমণ জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় ইরানের বিমান চলাচল খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন