এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এয়ারসাইড এলাকায় চলাচলকারী শত শত যানবাহনের বড় একটি অংশ এখনও আধুনিক নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং অ্যাপ্রোন এলাকায় পরিচালিত এসব যানবাহনে বাধ্যতামূলক ‘ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম’ (ভিটিএস) স্থাপনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বারবার তাগাদা ও আলটিমেটাম সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না অধিকাংশ এয়ারলাইন্স ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাদানকারী সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এয়ারসাইডে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সব যানবাহনকে কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় না আনলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সিএনএস-এটিএম ও ভিটিএস প্রযুক্তি বাস্তবায়নে স্থবিরতা
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ ও অন্যান্য যানবাহনের গতিবিধি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনা এড়াতে স্থাপিত সিএনএস-এটিএম (CNS-ATM) এবং অ্যাডভান্সড সারফেস মুভমেন্ট গাইডেন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (A-SMGCS)-এর আওতায় যানবাহনে ভিটিএস স্থাপন বাধ্যতামূলক করে বেবিচক।
প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের ১৫ জুনের মধ্যে সব যানবাহনে ভিটিএস সংযুক্ত করে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটির (এওসি) আবেদনের প্রেক্ষিতে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্ধিত সময় পার হলেও সংস্থাগুলো তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বেবিচকের এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. শামসুল হক সম্প্রতি জরুরি তাগিদপত্র ইস্যু করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে শতভাগ গাড়িতে ভিটিএস সংযোজন সম্পন্ন করে তালিকা জমা দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও অতীতের দুর্ঘটনা
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারসাইড অত্যন্ত সংবেদনশীল। রানওয়ে বা ট্যাক্সিওয়েতে কোনো যানবাহন ভুল পথে প্রবেশ করলে বা নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। ভিটিএস থাকলে যানবাহনের অবস্থান ও গতিবিধি কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। বেবিচকের নির্দেশনা সত্ত্বেও এয়ারলাইন্সগুলোর এই বিলম্ব চরম উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, অতীতে এয়ারসাইডে নজরদারির অভাবে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের নভেম্বরে শাহজালালে একটি পুশকার্টের ধাক্কায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। এর আগেও হ্যাঙ্গার ও অ্যাপ্রোন এলাকায় অসতর্ক যান চলাচলের কারণে উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজির রয়েছে।
মন্তব্য করুন