এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ভারতের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের (এনসিআর) দ্বিতীয় প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (ডিএক্সএন)। অভ্যন্তরীণ রুটে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক কার্গো ও যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দিল্লি বিমানবন্দরের ওপর যাত্রী ও এয়ারলাইন্সের চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিতু সামরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরটিতে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি, নতুন এয়ারলাইন্স আকর্ষণ এবং যাত্রী চাহিদা তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরটি থেকে গড়ে দৈনিক ৩৫টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের ১৬টি গন্তব্যকে যুক্ত করেছে। এসব ফ্লাইট পরিচালনা করছে ভারতের জনপ্রিয় বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইন্ডিগো (IndiGo) ও আকাসা এয়ার (Akasa Air)। আসন্ন শীতকালীন সময়সূচিতে (Winter Schedule) অভ্যন্তরীণ রুটের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
নয়ডা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট এবং পরবর্তী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য পশ্চিম এশিয়া (মধ্যপ্রাচ্য) ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তবে সার্বিক বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন (Regulatory Approval) ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (আইজিআই) সঙ্গে সরাসরি তীব্র প্রতিযোগিতার চেয়ে এটিকে অঞ্চলের পরিপূরক বা অল্টারনেটিভ হাব হিসেবে গড়ে তোলাই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। ডিজিটালাইজড সেবা ও দ্রুত যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় সাশ্রয়ী করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে নতুন এই বিমানবন্দর। একই সঙ্গে প্রতি যাত্রীর ৪৯০ রুপির ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি (ইউডিএফ)-কে প্রতিযোগিতামূলক ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে কর্তৃপক্ষ।
যাত্রীবাহী ফ্লাইটের পাশাপাশি বিমানবন্দরটির কার্গো ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া এসএটিএস (AISATS)-এর পরিচালনায় কার্গো টার্মিনালটির প্রাথমিক বার্ষিক ধারণক্ষমতা ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, যা ভবিষ্যতে ১৫ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে চেন্নাই থেকে আফকম হোল্ডিংসের প্রায় ২০ টন পণ্যবাহী প্রথম ফ্রেইটার ফ্লাইট অবতরণ করেছে। এছাড়া আকাসা এয়ারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (MRO) সুবিধা গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে
সূত্র: এভিয়েশন এটুজেড
মন্তব্য করুন