এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নির্ধারিত আসন সক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (DXB)। চলতি নভেম্বর মাসে বিমানবন্দরটি থেকে প্রায় ৪৪ লাখ ৭০ হাজার বহির্গামী আসন নির্ধারণ করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। আগমন ও বহির্গমন মিলিয়ে এই সক্ষমতা প্রায় ৮৯ লাখ ৪০ হাজার আসনের সমতুল্য।
বৈশ্বিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওএজি (OAG)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আসন সক্ষমতার হিসাবে দুবাইয়ের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর।
ওএজির তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নির্ধারিত আসন সংখ্যা প্রায় ৩৭ লাখ ৯০ হাজার। সেই হিসাবে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হিথ্রোর তুলনায় প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার আসনে এগিয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দুবাই বিমানবন্দরে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক আসন সক্ষমতা প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। তবে সক্ষমতা হ্রাস পেলেও বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিমানবন্দরটি।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আসন সক্ষমতায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ইনছন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নভেম্বরে বিমানবন্দরটির নির্ধারিত আসন সংখ্যা প্রায় ৩৭ লাখ।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর, যেখানে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক আসন সক্ষমতা প্রায় ৩৫ লাখ ৮০ হাজার। পঞ্চম অবস্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফোল বিমানবন্দরে আসন সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ ৫০ হাজার।
এ ছাড়া হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ৩১ লাখ ৯০ হাজার আসন নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। সপ্তম অবস্থানে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর, যার আন্তর্জাতিক আসন সক্ষমতা প্রায় ৩১ লাখ ৬০ হাজার।
ফ্রান্সের প্যারিস শার্ল দ্য গল বিমানবন্দর প্রায় ৩০ লাখ ৮০ হাজার আসন নিয়ে অষ্টম এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংকক সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর প্রায় ২৮ লাখ ২০ হাজার আসন নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে প্রায় ২৬ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক আসন নিয়ে শীর্ষ দশের তালিকায় দশম অবস্থানে রয়েছে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর।
| অবস্থান | বিমানবন্দর | আসন সক্ষমতা |
|---|---|---|
| ১ | দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৪৪.৭০ লাখ |
| ২ | লন্ডন হিথ্রো, যুক্তরাজ্য | ৩৭.৯০ লাখ |
| ৩ | সিউল ইনছন, দক্ষিণ কোরিয়া | ৩৭.০০ লাখ |
| ৪ | সিঙ্গাপুর চাঙ্গি, সিঙ্গাপুর | ৩৫.৮০ লাখ |
| ৫ | আমস্টারডাম শিফোল, নেদারল্যান্ডস | ৩২.৫০ লাখ |
| ৬ | হংকং আন্তর্জাতিক, হংকং | ৩১.৯০ লাখ |
| ৭ | ইস্তাম্বুল, তুরস্ক | ৩১.৬০ লাখ |
| ৮ | প্যারিস শার্ল দ্য গল, ফ্রান্স | ৩০.৮০ লাখ |
| ৯ | ব্যাংকক সুবর্ণভূমি, থাইল্যান্ড | ২৮.২০ লাখ |
| ১০ | ফ্রাঙ্কফুর্ট, জার্মানি | ২৬.৫০ লাখ |
ওএজির এই র্যাঙ্কিং মূলত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এয়ারলাইনসগুলোর নির্ধারিত আসন সংখ্যার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এটি বিমানবন্দর দিয়ে প্রকৃতপক্ষে কতজন যাত্রী যাতায়াত করেছেন, তার পরিসংখ্যান নয়।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট মিলিয়ে সামগ্রিক নির্ধারিত আসন সক্ষমতার হিসাবে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট বিশ্বের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এ তালিকায় দুবাইয়ের আগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা ও শিকাগো এবং জাপানের টোকিওর বিমানবন্দর।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইনস এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান পরিচালন কেন্দ্র।
এমিরেটসের বিস্তৃত দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং ফ্লাইদুবাইয়ের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রুটের সমন্বয়ে দুবাই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার কারণে বিমানবন্দরটি এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকার মধ্যে যাত্রী পরিবহনের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য দুবাইয়ের ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তৃত ফ্লাইট নেটওয়ার্ক এবং এয়ারলাইনসগুলোর সমন্বিত পরিচালনব্যবস্থা বিমানবন্দরটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আসন সক্ষমতায় ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখা বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগব্যবস্থায় দুবাইয়ের শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন।
মন্তব্য করুন