কাগজপত্রের ব্যবহার কমিয়ে যাত্রীদের দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সেবা দিতে ৭০০টির বেশি টাচপয়েন্টে বায়োমেট্রিক ট্রাভেল প্রযুক্তি চালু করেছে কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নতুন ব্যবস্থায় বিমানবন্দরের বিভিন্ন ধাপে বারবার পাসপোর্ট বা বোর্ডিং পাস দেখানোর পরিবর্তে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করতে পারবেন যাত্রীরা।
আন্তর্জাতিক এভিয়েশনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রিভিউ জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে ‘ফাস্ট পাস’ নামে এই বায়োমেট্রিক সেবা চালু করা হয়। হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কাতার এয়ারওয়েজ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SITA-এর সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়ন করেছে।
সেবাটি ব্যবহারের জন্য যাত্রীরা বিমানবন্দরের সেলফ-সার্ভিস চেক-ইন কিয়স্ক অথবা কাতার এয়ারওয়েজের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। একবার নিবন্ধনের পর বায়োমেট্রিক সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন টাচপয়েন্টে যাত্রীর মুখই ডিজিটাল পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
চেক-ইন, ব্যাগেজ জমা, নিরাপত্তা পরীক্ষা থেকে শুরু করে বোর্ডিং পর্যন্ত যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। ফলে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভ্রমণ নথি বা বোর্ডিং পাস দেখানোর প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগে। এতে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমার পাশাপাশি ব্যস্ত সময়ে বিমানবন্দরের যাত্রীপ্রবাহ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে বিমানবন্দরটির ৭০০টির বেশি টাচপয়েন্ট একটি সমন্বিত বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এর ফলে হামাদের এই উদ্যোগ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবন্দর বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে যাত্রীদের জন্য ‘ফাস্ট পাস’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। যারা বায়োমেট্রিক বা মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান না, তারা আগের মতো প্রচলিত পদ্ধতিতেই বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ফাস্ট পাসের পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের পাশাপাশি বিমানবন্দরটি ব্যবহারকারী অন্যান্য এয়ারলাইনকেও পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরটির বৃহত্তর ‘ইনোভেশন রোডম্যাপ’-এর অংশ হিসেবে বায়োমেট্রিক যাত্রা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA)-এর তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, বিমান ভ্রমণে বারবার কাগজপত্র দেখানোর পরিবর্তে ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবহারে যাত্রীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
মন্তব্য করুন