সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে এখন পর্যন্ত ১৩৪টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মোট ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন। ফ্লাইট পরিচালনায় এই বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবগামী, সৌদি আরব থেকে ফেরত এবং দেশটির বিমানবন্দর ব্যবহার করে ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে প্রভাব পড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬১টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের প্রভাবেই এসব ফ্লাইট স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
সরাসরি ফ্লাইটের তালিকায় বাংলাদেশের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সৌদি আরবের সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ার রয়েছে।
এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি সরাসরি ফ্লাইটও বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চারটি এয়ারলাইনসের ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা যোগ করলে দাঁড়ায় ৬১টি, যা মোট ক্ষতিগ্রস্ত সরাসরি ফ্লাইটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
| এয়ারলাইনস | ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট |
|---|---|
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস | ২২টি |
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস | ১০টি |
| সৌদিয়া এয়ারলাইনস | ১৯টি |
| রিয়াদ এয়ার | ১০টি |
| মোট | ৬১টি |
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে শুধু সরাসরি ফ্লাইট নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট এ পরিস্থিতির প্রভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইন্ডিগোর ২৮টি ফ্লাইট। এরপর এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।
| এয়ারলাইনস | ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট |
|---|---|
| ইন্ডিগো | ২৮টি |
| এমিরেটস | ১৪টি |
| কাতার এয়ারওয়েজ | ৯টি |
| ফ্লাইদুবাই | ৮টি |
| সালামএয়ার | ৭টি |
| এয়ার ইন্ডিয়া | ৬টি |
| ইজিপ্টএয়ার | ১টি |
| মোট | ৭৩টি |
ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে মোট ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী প্রভাবিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার করা ট্রানজিট যাত্রীরাও রয়েছেন।
ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন বা পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব যাত্রীর সৌদি আরবের কোনো বিমানবন্দরে ট্রানজিট পরিবর্তনের কথা রয়েছে, তাদের জন্য নতুন সময়সূচি বা বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী বা সৌদি আরব হয়ে অন্য দেশে ভ্রমণকারী যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফ্লাইট বিলম্বিত, পুনর্নির্ধারিত বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থার আওতায় পড়লে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস যাত্রীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। তাই টিকিটের তথ্য, ফ্লাইট নম্বর ও পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়মিত যাচাই করা জরুরি।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোর পরিচালনাগত পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়তে বা কমতে পারে। ফলে যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৩৪টি ফ্লাইট এবং ২০ হাজার ২৫৪ জন যাত্রী প্রভাবিত হওয়ার ঘটনা সৌদি আরবের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের উল্লেখযোগ্য প্রভাব তুলে ধরছে।
মন্তব্য করুন