দেশের এভিয়েশন খাতে দ্রুত বাড়ছে যাত্রী চলাচল। বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতার তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি হওয়া চাপ কমাতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যা এরই মধ্যে সেই সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে দেশের আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ জন।
বিমান চলাচলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে ৬৬ হাজার ৬৭৫টি। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার ৫৭৯টি। একই সময়ে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, বোর্ডিং গেট, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। যাত্রীদের উন্নত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আধুনিক ও বৃহৎ সক্ষমতার নতুন অবকাঠামো।
এই প্রেক্ষাপটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের এভিয়েশন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরু হলে বর্তমান যাত্রী ব্যবস্থাপনার চাপ অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃতীয় টার্মিনালে আধুনিক যাত্রীসেবা ব্যবস্থা, উন্নত ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং প্রযুক্তি, বাড়তি চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা, বোর্ডিং গেট এবং আন্তর্জাতিক মানের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ এর মাধ্যমে যে যাত্রীসেবা দেওয়া হচ্ছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বিমানবন্দরের সামগ্রিক যাত্রী ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতের যাত্রী প্রবৃদ্ধি মোকাবিলা করা সহজ হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশনাল প্রস্তুতি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং কারিগরি কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় টার্মিনাল শুধু যাত্রীসেবার চাপ কমাবে না, বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। আধুনিক এই অবকাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আকর্ষণ করতে পারবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
পাশাপাশি উন্নত বিমানবন্দর সুবিধা দেশের পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন