aviation
প্রকাশিত: 2 October 2026, 2:29:44 Pm
অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ২৫ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বায়রার একাংশের উদ্বেগ

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সরাসরি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত স্মারকলিপি দেয়।

স্মারকলিপিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগের মূল নিয়ন্ত্রণ আবারও সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ার Foreign Workers Centralized Management System (FWCMS)-এ ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরও তাদের যদি মূল ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে হয়, তাহলে এই অন্তর্ভুক্তির বাস্তব সুফল পাওয়া যাবে না বলে দাবি করেছে বায়রার ওই অংশ।

সরাসরি কর্মী পাঠানোর সুযোগ চায় সহযোগী এজেন্সিগুলো

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, FWCMS-এ অন্তর্ভুক্ত সহযোগী এজেন্সিগুলোকে তাদের নিজস্ব বৈধ লাইসেন্স এবং নিজস্ব কাজের চাহিদাপত্র বা Job Order অনুযায়ী সরাসরি কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

বায়রার ওই অংশের দাবি, সহযোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও যদি একটি এজেন্সিকে অন্য কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে হয়, তাহলে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

তারা এমন একটি নিয়োগ কাঠামোর দাবি জানিয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সরকারি শর্ত পূরণকারী প্রতিটি যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে।

‘২৫ এজেন্সির হাতে নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে আশঙ্কা

স্মারকলিপিতে বায়রার একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, নতুন ব্যবস্থাতেও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর মূল নিয়ন্ত্রণ ২৫টি এজেন্সির হাতে থেকে যেতে পারে।

তবে এটি স্মারকলিপি প্রদানকারী পক্ষের দাবি ও আশঙ্কা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর চূড়ান্ত কাঠামো কী হবে এবং কোন এজেন্সি কীভাবে কর্মী পাঠাতে পারবে, তা সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত ও কার্যকর নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

এ কারণে ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমেই সব কর্মী পাঠাতে হবে—এটিকে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেখা প্রয়োজন।

৩১২ সহযোগী এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বায়রার একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, FWCMS ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, এসব প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও যদি সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, তাহলে এতসংখ্যক এজেন্সিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে।

এ কারণে প্রত্যেক যোগ্য এজেন্সিকে নিজস্ব Job Order-এর বিপরীতে কর্মী প্রক্রিয়াকরণ এবং পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি

স্মারকলিপিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বায়রার ওই অংশের মতে, বেশি সংখ্যক যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

তবে কর্মী পাঠানোর খরচ, নিয়োগের স্বচ্ছতা বা অভিবাসন ব্যয়ের ওপর এমন ব্যবস্থার প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা বাস্তবে কার্যকর হওয়া নিয়োগ কাঠামো ও দুই দেশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী কর্মীদের সতর্ক থাকা জরুরি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা এজেন্সির তালিকার খবর প্রকাশের পর কর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারী মালয়েশিয়ায় দ্রুত পাঠানোর কথা বলে অর্থ, পাসপোর্ট কিংবা মেডিকেলের জন্য টাকা চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে একটি এজেন্সি FWCMS-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—এমন দাবি করলেই সেই প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দেওয়া নিরাপদ, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধ লাইসেন্স, Job Order, নিয়োগের অনুমোদন এবং সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।

চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান গন্তব্য হওয়ায় নিয়োগব্যবস্থায় যেকোনো পরিবর্তন বিপুলসংখ্যক কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে কোন কোন এজেন্সি সরাসরি কর্মী পাঠাতে পারবে, সহযোগী এজেন্সির ভূমিকা কী হবে, নিয়োগ ব্যয় কত হবে এবং কর্মীদের কোন প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।

বায়রার একাংশ এখন সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্মারকলিপির বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পরবর্তী কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে।

সূত্র: বায়রার সংশ্লিষ্ট অংশের স্মারকলিপি ও প্রকাশিত তথ্য

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে আগুন, নিরাপদে সরানো

1

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বেবিচকের নিয়োগ পরীক্ষা শুরু, আবে

2

দেড় বছরের বেশি সময় পর মস্কোয় ফিরল সিরিয়ান এয়ারলাইন্স, দামেস্

3

যান্ত্রিক ত্রুটিতে কাঠমান্ডুতে বিমানের ফ্লাইট গ্রাউন্ডেড, আট

4

ফার্নবরো এয়ারশোতে শত শত উড়োজাহাজের অর্ডার, এগিয়ে বোয়িং-এ

5

কর্মস্পৃহা বাড়াতে লাঞ্চ ভাতা চান বেবিচক কর্মকর্তারা

6

বিমানবন্দরের আকাশে ড্রোন কতটা বিপজ্জনক? বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বন্

7

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে প্রায়োরিটি সেবা, বিমা

8

ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু প্রথম আন্তর্জা

9

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান, সুযোগ কৃষি ও মৎস্য খ

10

বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ নতুন উড়োজাহাজ, বড় সম্প্রসারণে যাচ্ছে ইউএ

11

ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় বিপর্যস্ত ব্যাংকক, দুই বিমানবন্দরে যেতে

12

১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বন্ধ রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

13

আম্মান–সানা নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করবে জর্ডান, স্বাগত

14

বরিশাল বিমানবন্দরে উন্নয়ন চলছে, কাটছে না যাত্রী ও ফ্লাইট সংক

15

বিমানবন্দর এলাকায় গাড়িতে মিলল পৌনে ৪ কোটি টাকার স্বর্ণ, চালক

16

কলকাতা বিমানবন্দরের এটিসি ভবনে আগুন, ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক

17

ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম-কুয়ালালামপুর সরাসরি ফ্লাইট চালুর

18

মাউন্ট এথনার অগ্ন্যুৎপাতে কাতানিয়া বিমানবন্দরে প্রায় ৭০০ ফ্ল

19

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনে আগামী মাসেই ORAT প্রক্র

20