aviation
প্রকাশিত: 2 October 2026, 2:45:47 Pm
অনলাইন সংস্করণ

নেপাল ও ভুটানের ট্রানজিট ভিসা নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করল ভারতীয় হাইকমিশন

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

নেপাল ও ভুটান ভ্রমণে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহারকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ট্রানজিট ভিসা নিয়ে অনুমোদনহীন এজেন্ট বা দালালের প্রতারণা থেকে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন।

হাইকমিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত ও নিশ্চিত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘Confirmed Visa’, ‘Guaranteed Slot’, ‘No Problem’ কিংবা ‘100% Success’-এর মতো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এসব দাবির কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের এ ধরনের প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে শুধু সরকারি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় ভিসার আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

‘গ্যারান্টিড ভিসা’ বলে কিছু নেই

ভারতীয় হাইকমিশনের সতর্কবার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো অনুমোদনহীন ব্যক্তি বা দালাল ভিসা নিশ্চিত করে দিতে পারেন না।

কোনো আবেদনকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ভিসা দেওয়া হবে কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

ফলে কোনো এজেন্ট যদি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ‘নিশ্চিত ভিসা’ বা ‘১০০ শতাংশ সফলতার’ প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কী ঝুঁকি

অনুমোদনহীন তৃতীয় পক্ষের হাতে ভিসা আবেদন ও ব্যক্তিগত নথি দিলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, আরও কয়েক ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন ভ্রমণকারীরা।

হাইকমিশনের সতর্কতা অনুযায়ী, দালালের মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে ভুয়া বা ভুল কাগজপত্র জমা পড়তে পারে। এর ফলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ফোন নম্বর, ই-মেইল এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত ব্যক্তির হাতে চলে গেলে সেগুলোর অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকে।

দালালকে দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা থাকে না।

নেপাল-ভুটান যেতে কখন ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা প্রয়োজন

বাংলাদেশ থেকে নেপাল বা ভুটানে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রাপথ যদি ভারতের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে হয়, তাহলে ভ্রমণের ধরন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ করে সড়কপথে ভারত অতিক্রম করে নেপাল বা ভুটান যাওয়ার পরিকল্পনা করলে যাত্রার আগেই প্রয়োজনীয় ভারতীয় ভিসা ও সংশ্লিষ্ট প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

তবে শুধু নেপাল বা ভুটানে যাচ্ছেন বলেই প্রত্যেক বাংলাদেশি যাত্রীর ক্ষেত্রে একইভাবে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা লাগবে—এমনভাবে বিষয়টি দেখা ঠিক নয়। যাত্রাপথে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ভ্রমণব্যবস্থা কী—সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান টিকিট কেনার আগেই ভিসার নিয়ম দেখুন

নেপাল বা ভুটান ভ্রমণের পরিকল্পনার সময় অনেক যাত্রী আগে বিমান বা বাসের টিকিট কিনে পরে ট্রানজিট ভিসার বিষয়টি বিবেচনা করেন। এতে শেষ মুহূর্তে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাই ভ্রমণের আগে পুরো itinerary পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

কোন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করবেন, কোথা দিয়ে বের হবেন, ভিসায় সংশ্লিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্ট ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে কি না এবং ট্রানজিটের সময়সীমা কত—এসব বিষয় আগেই নিশ্চিত করা নিরাপদ।

বিশেষ করে টিকিট যদি non-refundable হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ভিসা নিশ্চিত না করে টিকিট কেনা আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নিজে আবেদন করার পরামর্শ

ভারতীয় হাইকমিশন আবেদনকারীদের সম্ভব হলে নিজে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।

ভিসার প্রয়োজনীয়তা, আবেদনপদ্ধতি, ফি, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্যও শুধু সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অনুমোদিত উৎস থেকে যাচাই করা উচিত।

কোনো তৃতীয় পক্ষকে আবেদনকারীর ই-মেইল, OTP, অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে পুরো আবেদন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ দেওয়া নিরাপদ নয়।

ভিসা থাকলেও সীমান্তের নিয়ম জানা জরুরি

ট্রানজিট ভিসা পাওয়ার পরও ভ্রমণকারীদের নির্ধারিত সীমান্ত ও যাত্রাপথের নিয়ম মেনে চলতে হয়।

ভারত হয়ে নেপাল বা ভুটানে সড়কপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোন Land Check Post বিদেশি নাগরিকদের জন্য ব্যবহারযোগ্য, ভিসায় নির্ধারিত Entry/Exit শর্ত কী এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি কী—এসব আগেই যাচাই করা উচিত।

পাসপোর্টের পর্যাপ্ত মেয়াদ, নেপাল বা ভুটানে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফিরতি বা পরবর্তী যাত্রার পরিকল্পনাও সঙ্গে রাখা প্রয়োজন হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ভিসা এজেন্ট’ থেকে সতর্কতা

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ভারতীয় ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখা যায়।

কোনো পেজে ভারতীয় পতাকা, দূতাবাসের ছবি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো নাম-লোগো ব্যবহার করা হলেই সেটি অনুমোদিত সেবা—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বরে অর্থ পাঠানোর আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ভারতীয় হাইকমিশনের বার্তার মূল বক্তব্য হলো—ভিসা পাওয়ার কোনো শর্টকাট বা দালালের ‘গ্যারান্টি’র ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

নেপাল বা ভুটানগামী বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদেরও যাত্রার আগে নিজেদের রুট অনুযায়ী ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজনীয়তা ও সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সূত্র: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের বিমান চলাচল, বেড়েছে ভাড়

1

শাহজালালের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ANO, ICAO অডিট সামনে রেখে

2

বেবিচকের নিয়োগ: প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে একটি করে পদে আবেদন করা য

3

ইউএস-বাংলার হজ ফ্লাইটে আগ্রহ, ৯৮ হাজার টাকা নেট ভাড়ার প্রস্ত

4

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে ৮ ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত, ভোগান্তির মুখে

5

বহরে যুক্ত হচ্ছে ২১ নতুন উড়োজাহাজ, বড় সম্প্রসারণে যাচ্ছে ইউএ

6

শাহজালালের নিরাপত্তা পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড গুলিভর্তি ব্যাগ বিমানে

7

শাহ আমানত বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ২০৭০ সালের মাস্টারপ্ল্যান,

8

বাংলাদেশে ভ্রমণে সতর্কতা কমাল যুক্তরাষ্ট্র, উন্নত হলো ট্রাভে

9

সিভিল এভিয়েশন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রথম প্রশিক্ষ

10

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী বিমানের সব ফ্লাইট স্থ

11

আট বছর পর ওসমানী বিমানবন্দরে ফিরছে বিদেশি এয়ারলাইন্স, ১ সেপ্

12

শাহজালালে ৮৬১ গ্রাম স্বর্ণসহ ৩ জন আটক, উদ্ধার স্বর্ণের মূল্য

13

তৃতীয় টার্মিনালে বিমানবাহিনীর গাড়ি দুর্ঘটনা: চালকের অদক্ষতা

14

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান যোগাযোগে নতুন মাইলফলক, এভিয়েশন কূটনীতিতে

15

উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে বড় বহর সম্প্রসারণে বিমান, বোয়িংয়ের পর এ

16

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে আই

17

১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনে জাপানের সহযোগিতা চাইল ব

18

৩৪ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি, সুবিধা পাবেন

19

সবুজ এভিয়েশনের পথে বাংলাদেশ, টেকসই বিমান জ্বালানি (SAF) ব্যব

20