হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি ও বহিরাঙ্গনে যাত্রীদের স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য স্থাপিত ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে সিস্টেমের (এফআইডিএস) ২৭টি মনিটরের মধ্যে ১১টি দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। এতে ফ্লাইটের আগমন, বিলম্ব কিংবা যাত্রী কোন গেট দিয়ে বের হবেন—এসব তথ্য জানতে ভোগান্তিতে পড়ছেন বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনরা।
সম্প্রতি বিমানবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে থাকা কয়েকটি এলইডি মনিটর সম্পূর্ণ বন্ধ। কোনো কোনো মনিটরে আবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তথ্য ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না। অথচ বিমান অবতরণ করেছে কি না, ফ্লাইট বিলম্বিত হচ্ছে কি না এবং যাত্রী কোন গেট দিয়ে বের হবেন—এসব তথ্য জানতে দর্শনার্থীদের অন্যতম ভরসা এই ডিসপ্লেগুলো।
আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ১ ও ২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এবং যাত্রী বিশ্রামাগার এলাকায় মোট ২৭টি এফআইডিএস মনিটর রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অচল। টার্মিনাল-১-এর নিচতলায় থাকা দুটি মনিটরের দুটিই বন্ধ। বিপরীতে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য স্থাপিত ১৭টি ডিসপ্লে সচল রয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে আসা স্বজনকে নিতে বিমানবন্দরে আসা কুমিল্লার শফিকুল ইসলাম বলেন, বাইরে থেকে ফ্লাইট অবতরণ করেছে কি না, তা সহজে জানার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে মনিটর বন্ধ থাকায় স্বজনদের অপেক্ষা ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
টার্মিনাল-২-এর একটি সচল মনিটরেও তথ্য প্রদর্শনে ত্রুটি দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা মো. হাসান বলেন, মনিটর থাকলেও তথ্য পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে ক্যানোপির মেঝেতে বৃষ্টির পানি জমে থাকার বিষয়েও অভিযোগ করেন তিনি।
যাত্রী অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের পাশাপাশি অপেক্ষমাণ স্বজনদেরও সঠিক ও সময়মতো ফ্লাইটের তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিসপ্লে অচল থাকা যাত্রীসেবার মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
রোমে আটকা পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের একজনকে নিতে আসা ৭৫ বছর বয়সী শেখ বখতিয়ার হোসেনও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সঠিক তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, এফআইডিএস মনিটর ইলেকট্রনিক পণ্য হওয়ায় নিয়মিত সার্ভিসিং প্রয়োজন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে টার্মিনাল-১-এর সামনে চলমান নির্মাণকাজের কারণে কয়েকটি মনিটরের দৃশ্যমানতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নির্মাণকাজের টিনের বেড়ার আড়ালে পড়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীরা সহজে সেগুলো দেখতে পারছেন না।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট তথ্যব্যবস্থা দ্রুত সচল করে যাত্রী ও অপেক্ষমাণ স্বজনদের ভোগান্তি কমানোর দাবি জানিয়েছেন বিমানবন্দর ব্যবহারকারীরা।
ছবি: এআই জেনারেটেড
মন্তব্য করুন