এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভারতের নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ থেকে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত পাঠানোর পর সেটিকে রাজস্থানের জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি জয়পুরে অবতরণ করে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই২০৩০ (AI2030) ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের সময় উড়োজাহাজটির ককপিট থেকে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ সংকেত পাঠানো হয়। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে এই বিশেষ সংকেত উড়োজাহাজে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাই পরিস্থিতি নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।
সংকেত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উড়োজাহাজটির নির্ধারিত গন্তব্য দিল্লির পরিবর্তে জয়পুরে অবতরণের ব্যবস্থা করা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজটিকে একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভারতের কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ), স্থানীয় পুলিশ এবং বোমা শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা নিরাপত্তা তল্লাশি পরিচালনা করেন।
এ সময় উড়োজাহাজটির সব যাত্রী ও কেবিন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুই পাইলটকেও উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডকে (এনএসজি) প্রস্তুত রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচলে উড়োজাহাজ শনাক্তকরণ এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রান্সপন্ডার কোড ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ একটি বিশেষ জরুরি কোড, যা উড়োজাহাজে বেআইনি হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি নির্দেশ করে। কোনো উড়োজাহাজ থেকে এই সংকেত পাওয়া গেলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবতরণ এবং বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ সংকেত পাওয়া মানেই উড়োজাহাজটি নিশ্চিতভাবে ছিনতাই হয়েছে, এমন নয়। সংকেত পাঠানোর প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এদিকে, জয়পুরে অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালানো হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে পাইলট কেন ওই সংকেত পাঠিয়েছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্লাইটটির মোট যাত্রীসংখ্যা, নিরাপত্তা তল্লাশির চূড়ান্ত ফলাফল এবং উড়োজাহাজটি পরবর্তী সময়ে দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এয়ার ইন্ডিয়া ও সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নিরাপত্তা সতর্কতার পর উড়োজাহাজটি জয়পুরে নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং যাত্রী ও ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
মন্তব্য করুন