এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ১০টি উড়োজাহাজ লিজ (ভাড়া) নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন কেনা ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বাড়তি যাত্রীচাহিদা মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, চলতি বছর থেকেই পর্যায়ক্রমে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যেও বিমান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে তিনটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিচালনাগত প্রয়োজন ও রুট সম্প্রসারণের অগ্রগতির ভিত্তিতে লিজের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজের বহর ২০২৭ সালের মধ্যে বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে, যা বহরের সক্ষমতা প্রায় ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, লিজ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরো লিজ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, লিজের মাধ্যমে উড়োজাহাজ সংগ্রহের এই উদ্যোগটি বিমানের ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বাইরে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওই প্রকল্পের আওতায় ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। তবে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহে দীর্ঘ সময় লাগায় তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক লিজ বাজারের ওপর নির্ভর করছে বিমান।
এরই অংশ হিসেবে ছয় বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্রাই লিজে নেওয়ার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, বোয়িং ৭৩৭ এবং ড্যাশ ৮-৪০০ মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বহর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় বহর সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে পারলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিদেশি এয়ারলাইনসের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও উন্নত ও বিস্তৃত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
মন্তব্য করুন