এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কয়েক মুহূর্ত আগে পাখির সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ। আঘাতে উড়োজাহাজটির সামনের nose cone বা radome-এর প্রায় ১৮ ইঞ্চি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের পর নির্ধারিত চেন্নাই–লন্ডন ফিরতি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুলাই ভোর প্রায় সাড়ে ৩টায়। লন্ডন থেকে ২২৬ যাত্রী নিয়ে আসা উড়োজাহাজটি চেন্নাইয়ে final approach-এর সময় bird strike-এর শিকার হয়। তবে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে নেমে যান। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক পরিদর্শনে দেখা যায়, bird strike-এর আঘাতে cockpit-এর সামনের radome-এর প্রায় ১৮ ইঞ্চি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই radome মূলত aircraft-এর weather radar antenna-কে বাইরের পরিবেশ ও aerodynamic load থেকে সুরক্ষা দেয়।
Bird strike-এর পর উড়োজাহাজটিকে remote apron-এ নেওয়া হয় এবং প্রকৌশলীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরীক্ষা করেন। একই aircraft-এর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লন্ডনে ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল।
প্রকৌশলীরা প্রথমে temporary repair করে উড়োজাহাজটি লন্ডনে ফেরত পাঠানো সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করেন। কিন্তু বিস্তারিত inspection-এর পর দেখা যায়, প্রয়োজনীয় replacement part স্থানীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।
এরপর aircraft-টিকে পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ছাড়পত্র না দিয়ে চেন্নাই–লন্ডন ফিরতি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছিল, ঘটনাটি ভারতের Directorate General of Civil Aviation (DGCA)-কেও জানানো হয়েছে।
উড়োজাহাজের নাকের সামনের গোলাকার অংশটি শুধু aerodynamic structure নয়। এর ভেতরে সাধারণত weather radar antenna থাকে, যা সামনে থাকা বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার তথ্য শনাক্ত করতে পাইলটদের সহায়তা করে।
এ কারণে radome এমন উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে radar signal সহজে এর মধ্য দিয়ে যেতে পারে। Bird strike, hail বা অন্য কোনো আঘাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু বাহ্যিক damage নয়, ভেতরের radar system-ও পরীক্ষা করতে হয়।
তাই aircraft নিরাপদে অবতরণ করলেও engineering inspection শেষ না করে পরবর্তী commercial flight পরিচালনা করা হয় না।
ফিরতি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর লন্ডনগামী যাত্রীদের জন্য হোটেলের ব্যবস্থা করে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ। আসন পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিছু যাত্রী বিকল্প শহর হয়ে যাত্রা করেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের Guindy ও Race Course এলাকার আশপাশে পাখির উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে।
Race Course এলাকায় প্রস্তাবিত Eco Park-এর জন্য চলমান excavation পাখি আকৃষ্ট করতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করেছেন। তবে ওই কার্যক্রমের কারণেই এই নির্দিষ্ট bird strike ঘটেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
Bird strike বিশ্বের বিমানবন্দরগুলোর জন্য পরিচিত aviation safety hazard। বিশেষ করে take-off ও landing-এর সময় aircraft তুলনামূলক কম উচ্চতায় থাকায় পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বেশি থাকে।
পাখি engine-এ প্রবেশ করলে কিংবা windshield, wing, radome বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত করলে aircraft-এর বিস্তারিত technical inspection প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী aircraft সাময়িকভাবে service-এর বাইরে রাখতেও হয়।
চেন্নাইয়ের ঘটনাতেও উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করলেও radome-এর ক্ষতির কারণে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে লন্ডনে ফেরত পাঠানো হয়নি। ফলে ঘটনাটি আবারও দেখিয়েছে, একটি bird strike কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটিয়েও aircraft availability, flight schedule এবং যাত্রীসেবায় বড় ধরনের operational disruption তৈরি করতে পারে।
সূত্র: The New Indian Express, The Times of India
মন্তব্য করুন