এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
উড়োজাহাজের আসনে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর ইতালির রোম থেকে অস্ট্রেলিয়ার পার্থগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। এতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি যাত্রীরা। উড়োজাহাজের কেবিন পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয় বিমান সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে একই উড়োজাহাজে ভ্রমণকারী কয়েকজন যাত্রী ছারপোকার কামড়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর উড়োজাহাজটির পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে পরবর্তী ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কোয়ান্টাস কর্তৃপক্ষ।
সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম নাইন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ অক্টোবর পার্থ থেকে রোমগামী কোয়ান্টাসের কিউএফ৫ ফ্লাইটের ইকোনমি শ্রেণির কয়েকজন যাত্রী ছারপোকার উপদ্রবের অভিযোগ করেন।
ওই ফ্লাইটের যাত্রী হেইলি ব্যাগনল নাইন নিউজকে জানান, উড়োজাহাজের ভেতরে ছারপোকা যাত্রীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, পোশাক ও বিমান সংস্থার সরবরাহ করা কম্বলের ওপর চলাচল করছিল। এমনকি জানালার পাশেও ছারপোকা দেখতে পান তিনি।
যাত্রীদের অভিযোগের পর উড়োজাহাজের কেবিন পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ইকোনমি শ্রেণির কয়েকটি আসনে ছারপোকার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় বিস্তারিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন দেখা দেয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। উড়োজাহাজের ইকোনমি শ্রেণির কয়েকটি আসনে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমান সংস্থাটি জানায়, প্রকৌশলী ও রক্ষণাবেক্ষণকর্মীদের প্রয়োজনীয় সময় নিশ্চিত করতে শনিবারের রোম-পার্থ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় যাত্রীদের অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
কোয়ান্টাস আরও জানিয়েছে, তাদের উড়োজাহাজের কেবিন নিয়মিতভাবে নির্ধারিত উচ্চমান অনুসরণ করে পরিষ্কার করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প ফ্লাইটে আসন নিশ্চিত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ছারপোকা ছোট, চ্যাপ্টা ও লালচে-বাদামি রঙের একধরনের পরজীবী পোকা। এগুলো সাধারণত রাতে মানুষের রক্ত পান করে। ছারপোকার কামড়ে ত্বকে লালচে দাগ, ফোলাভাব ও চুলকানি দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।
ছারপোকা শুধু বিছানা বা আসবাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। লাগেজ, ভ্রমণের ব্যাগ, পোশাক ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর মাধ্যমে এগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় এ ধরনের পোকার উপস্থিতি যাত্রীদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছারপোকার উপদ্রব দেখা দিলে আক্রান্ত স্থান ভালোভাবে পরীক্ষা ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণসেবার সহায়তাও নিতে হতে পারে।
কোয়ান্টাসের এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে উড়োজাহাজের কেবিন পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত সমাধানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
সূত্র: CNN, 9News ও যুক্তরাষ্ট্রের Centers for Disease Control and Prevention (CDC)।
মন্তব্য করুন