aviation
প্রকাশিত: 2 October 2026, 10:16:44 Pm
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা, নতুন অনুদান ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গত ২৫ বছরে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের Ambassadors Fund for Cultural Preservation (AFCP)। এ তহবিলের আওতায় এখন পর্যন্ত দেশের ১৩টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে।

এর সর্বশেষ প্রকল্পগুলোর একটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার। প্রকল্পটির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। মসজিদটির ইসলামিক স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকেও দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং AFCP-এর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান তথ্যেও নিতাই রায় চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুসা খান মসজিদে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলারের প্রকল্প

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকার ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ মুঘল স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি।

মসজিদটি সংরক্ষণে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলারের AFCP অনুদান ৩১ মার্চ ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে অংশীদারত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই প্রকল্পে শুধু ভবনের সংস্কার নয়, মসজিদটির ঐতিহাসিক ইসলামিক স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, একটি স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং তরুণ স্থপতিদের heritage conservation বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলে প্রকল্পটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য পুরাকীর্তি রক্ষায় দক্ষ জনবল তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

২৫ বছরে ১৩ প্রকল্পে অর্থায়ন

AFCP-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে ১৩টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিনিয়োগ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।

এই সহযোগিতার আওতায় পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক শাঁখারীবাজার, লালবাগ কেল্লার বিভিন্ন অংশ এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর-সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণ উদ্যোগ রয়েছে।

স্থাপত্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অর্থায়ন শুধু ভবনের বাহ্যিক সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা, নথিভুক্তকরণ ও দক্ষতা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হলে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণ পর্যটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটনের আলোচনায় সাধারণত কক্সবাজার, সুন্দরবন বা সিলেটের মতো প্রাকৃতিক গন্তব্য বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু দেশের মুঘল, সুলতানি, ঔপনিবেশিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো cultural tourism বা heritage tourism সম্প্রসারণের বড় সম্পদ।

ঢাকার মুসা খান মসজিদ, লালবাগ কেল্লা কিংবা পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকাগুলোকে সংরক্ষণ করে পরিকল্পিত পর্যটন সার্কিটে যুক্ত করা গেলে বিদেশি পর্যটকের জন্য রাজধানীতেই একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যভিত্তিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব।

বিশেষ করে ঢাকায় স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও ট্রানজিট যাত্রীদের লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টা বা এক দিনের heritage tour তৈরি করা গেলে শহরের পর্যটন অর্থনীতিতেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আলোচনায় পানাম সিটির উন্নয়ন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়টিও দুই পক্ষের আলোচনায় এসেছে।

এর মধ্যে সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক পানাম সিটির উন্নয়ন, যৌথ সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং শিল্পী বিনিময়ের মতো সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

পানাম সিটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নগর স্থাপত্য এলাকা। এ ধরনের স্থাপনা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পর্যটকের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ এবং মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার বিষয়ও উঠে আসে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে পাঠানো সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিষয়টি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা আলোচনায় এসেছে।

দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিস্তৃত হলে ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা, প্রদর্শনী, শিল্পী বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বের সুযোগও বাড়তে পারে।

নজরুলের সাহিত্য সংরক্ষণে আগ্রহ

আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম সংরক্ষণের বিষয়টিও আসে।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের Library of Congress-এর নজরুলের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহের কথা জানান বলে বৈঠকের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নজরুলের সাহিত্যকর্মের আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ডিজিটাল সংরক্ষণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণ মানেই শুধু পুরোনো ভবন সংস্কার নয়

Heritage conservation-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনাকে নতুন করে চকচকে ভবনে রূপ দেওয়া নয়; বরং তার মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, ব্যবহৃত উপকরণ, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রাখা।

মুসা খান মসজিদ প্রকল্পে ডিজিটাল আর্কাইভ ও তরুণ স্থপতিদের প্রশিক্ষণ যুক্ত থাকার কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থাপনাটির তথ্য সংরক্ষণের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষেত্রে একইভাবে নথিভুক্তকরণ, বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ এবং প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

সংরক্ষিত ঐতিহ্য হতে পারে পর্যটনের নতুন শক্তি

বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক বাড়ানোর পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

শুধু একটি স্থাপনা সংস্কার করলেই পর্যটন তৈরি হয় না। সেখানে যাওয়ার সহজ ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত গাইড, নির্ভরযোগ্য তথ্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা, ডিজিটাল তথ্য এবং কাছাকাছি অন্যান্য দর্শনীয় স্থানকে যুক্ত করে heritage circuit তৈরি করা প্রয়োজন।

মুসা খান মসজিদ, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, পুরান ঢাকা এবং সোনারগাঁওয়ের মতো গন্তব্যগুলোকে পরিকল্পিতভাবে উপস্থাপন করা গেলে ঢাকা ও আশপাশে সাংস্কৃতিক পর্যটনের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

AFCP-এর গত ২৫ বছরের অর্থায়ন বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রেখেছে। এখন এসব সংরক্ষিত সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যুক্তরাষ্ট্রের AFCP-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রকাশিত সরকারি সংবাদ

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তৃতীয় দিনের মতো চলছে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নেগোশিয়েশন, দ্

1

উড়োজাহাজের টয়লেটে মিলল ৫০ স্বর্ণবার, শাহজালালে কাস্টমস গোয়েন

2

হংকং-শাহজালাল রুটে ফল আমদানির আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান, এক বছর

3

বৈশ্বিক এভিয়েশনের দুই স্তম্ভ: আইকাও ও আইয়াটার কাজের পরিধি ও

4

যশোর বিমানবন্দরে চালু হলো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র

5

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, তেলআবিব ও দুবাইয়ে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়

6

মাঝ আকাশে ২৮ হাজার ফুট দ্রুত নিচে নামল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্

7

যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবতরণের পর সি-প্লেনে আগুন, ১১ আরোহীকে জী

8

হজ নিবন্ধনে ধীরগতি, কোটা হারানোর শঙ্কা; নতুন সৌদি চুক্তিতে স

9

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’ পালিত

10

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে প্রায়োরিটি সেবা, বিমা

11

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী মেন

12

শাহজালালে মালয়েশিয়ান যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ উদ্

13

১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করল বিম

14

২০২৭ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মধ্যে নতুন রুটে ফ্ল

15

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ওভারফ্লাই রাজস্বে প্রবৃদ্ধি, এক বছ

16

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বিঘ্ন, যাত্রীদের সুরক্ষায়

17

বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে দুবাই, ঢাকায় সরাসরি

18

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের কর্মীর কাছ থেকে ১ কেজির বেশি স্

19

বিমানে Power Bank নেওয়ার নিয়ম কী? যাত্রার আগে জেনে নিন নতুন

20