এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
সার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভার বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) ছাড়পত্র দ্রুত পুনরায় চালু ও প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছে ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটির দাবি, ছাড়পত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং বৈধ ভিসা থাকার পরও অনেক কর্মী নির্ধারিত সময়ে ইউরোপের এসব দেশে যেতে পারছেন না। এতে কারও কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে বিদেশে চাকরির সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. তুহিন বলেন, তারা কোনো অনিয়ম বা অবৈধ প্রক্রিয়ার সুযোগ চান না। বৈধ ভিসা ও বিদেশে চাকরির সুযোগ পাওয়া কর্মীরা যেন প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই কর্মস্থলে যেতে পারেন, সেটিই তাদের দাবি।
সংগঠনটি বিশেষ করে যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।
তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে একজন কর্মীর শুধু বিদেশে চাকরির সুযোগই ঝুঁকিতে পড়ে না; ভিসা, মেডিকেল, প্রশিক্ষণ, কাগজপত্র প্রস্তুত এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় করা আর্থিক ব্যয়ও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে একই বিদেশি প্রতিষ্ঠানে পাঁচজনের বেশি বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবিও জানানো হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, অতিরিক্ত অনুমোদন এবং Demand Letter সত্যায়নসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করার পরও অনেক বৈধ ভিসাধারীর বিদেশযাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে।
তাদের দাবি, এর ফলে শত শত কর্মী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তবে কতজন কর্মীর BMET ছাড়পত্র বর্তমানে আটকে রয়েছে কিংবা তিন দেশের জন্য ঠিক কোন পর্যায়ের প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত রয়েছে—সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবির বাইরে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি।
সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম সরদার BMET এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রয়োজনীয় সত্যায়ন ও ছাড়পত্রের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় বিদেশে চাকরিতে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। প্রয়োজন হলে তারা লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতেও প্রস্তুত।
বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি ভিসা হাতে পাওয়াই পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে BMET-এর নিবন্ধন, বহির্গমন ছাড়পত্র বা Emigration Clearance এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।
ফলে কোনো কর্মীর কাছে সার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া বা মলদোভার বৈধ কাজের ভিসা থাকলেও বাংলাদেশের প্রযোজ্য বহির্গমন ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে তার বিদেশযাত্রায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে শুধু BMET ছাড়পত্র থাকাও গন্তব্য দেশে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ ভিসা, কাজের অনুমতি এবং সীমান্ত বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নিয়মও প্রযোজ্য হবে।
ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো—যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, তাদের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিয়ে নিষ্পত্তি করা।
কারণ কাজের ভিসা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে নতুন করে ভিসা বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। বিষয়টি অবশ্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার ধরন ও নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
এ কারণে সংগঠনটি এমন একটি ব্যবস্থা চায়, যেখানে প্রয়োজনীয় যাচাই বজায় রেখেই বৈধ কর্মীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
সার্বিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় চাকরির জন্য অপেক্ষমাণ কর্মীদের নিজেদের নথিপত্রের বৈধতা সম্পর্কেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, চাকরির চুক্তি, বেতন ও অন্যান্য সুবিধা, ভিসার ধরন, Work Permit, Demand Letter, রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স এবং BMET-এর প্রযোজ্য প্রক্রিয়া যাচাই করে বিদেশযাত্রা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শুধু ‘ইউরোপের ভিসা’ দেওয়ার কথা বলে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করলে সরকারি অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে দাবি আদায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সমন্বয়ক মো. তুহিন, ইব্রাহিম সরদার ও সুমন রহমানসহ অন্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য BMET ছাড়পত্রের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং BMET কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মীদের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর আশ্বাসের পরিবর্তে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
সূত্র: ইউরোপ ভিসা প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন ও প্রকাশিত তথ্য
মন্তব্য করুন