হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকার প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আছে ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ। প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা এসব উড়োজাহাজের কারণে বিমান পার্কিং ও কার্গো কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা এবং অ্যাপ্রোন থেকে সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ের সুযোগও কমছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের মে মাসে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরপর নিলামের মাধ্যমে এগুলো বিক্রি করে অ্যাপ্রোনের জায়গা খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বেবিচককে উড়োজাহাজগুলোর ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আসাফিয়া সিরাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে রপ্তানি কার্গো ভবনের সামনের অ্যাপ্রোনে থাকা বাজেয়াপ্ত ও পরিত্যক্ত ১২টি উড়োজাহাজ এবং সংশ্লিষ্ট মালামালের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আটটি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে উড়োজাহাজ রয়েছে। একসময় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় এগুলোর অধিকাংশই এখন কার্যত স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে।
এসব উড়োজাহাজ যে স্থানে রাখা হয়েছে, সেটি বিমানবন্দরের অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি কার্গো ভবনের সামনের অ্যাপ্রোন এলাকায় উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের পাশাপাশি কার্গো ওঠানামার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিমানবন্দরে ফ্লাইট ও কার্গো পরিবহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপ্রোনের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। কিন্তু বিপুল জায়গা পরিত্যক্ত উড়োজাহাজের দখলে থাকায় নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিং এবং কার্গো কার্যক্রম সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এর আগে উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার চিঠি দেয় বেবিচক। তাতে কার্যকর ফল না আসায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতামতসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর নিলামের মাধ্যমে দ্রুত এগুলো সরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
তবে নিলামের আগে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আসে। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এসব উড়োজাহাজের বর্তমান মূল্য নির্ধারণে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হতে পারে। বেবিচকের বিবেচনায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করাতে যে ব্যয় হতে পারে, তা উড়োজাহাজগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থের তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ না করে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে উড়োজাহাজগুলো বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল বেবিচক। সংস্থাটির যুক্তি ছিল, এতে মূল্যায়নের অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানোর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক দর পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গত ১৬ জুলাই এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান।
তবে মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে ১৩ আগস্টের চিঠিতে আগে ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ এবং পরে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে প্রায় এক দশক ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন দখল করে রাখা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ সরানোর প্রক্রিয়া আপাতত মূল্যায়ন ও নিলামের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
মন্তব্য করুন