এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ার ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে এয়ারলাইনসটির প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করল সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইনসটি।
ঢাকায় প্রথম ফ্লাইট পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার স্যালুটের মাধ্যমে উড়োজাহাজটিকে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, রিয়াদ এয়ারের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই রুটে বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার দিয়ে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে রিয়াদ এয়ার। ফলে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য আরও একটি সরাসরি ভ্রমণ বিকল্প যুক্ত হলো।
ফ্লাইট উদ্বোধন উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ এবং রিয়াদ এয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ভিন্সেন্ট কোস্টা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সৌদি আরবকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি যাত্রীদের বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেওয়াই রিয়াদ এয়ারের অন্যতম লক্ষ্য।
ঢাকা–রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও অবকাশযাত্রায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা–রিয়াদ রুটে প্রতিদিন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করবে রিয়াদ এয়ার।
ফ্লাইটের সময়সূচি অনুযায়ী, রিয়াদ থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাইট ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
ফিরতি ফ্লাইট ঢাকা থেকে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।
দৈনিক ফ্লাইট থাকায় ব্যবসায়িক যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সৌদি আরবগামী অন্যান্য যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় আরও নমনীয়তা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও জনসম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকার পাশাপাশি প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য দেশটিতে যাতায়াত করেন।
ফলে বাংলাদেশ–সৌদি আরব বিমানবাজারে যাত্রীর নিয়মিত চাহিদা রয়েছে। রিয়াদ এয়ারের মতো নতুন একটি এয়ারলাইনস যুক্ত হওয়ায় এই বাজারে যাত্রীদের ভ্রমণ বিকল্প আরও বাড়বে।
একই রুটে একাধিক এয়ারলাইনসের উপস্থিতি যাত্রীদের ফ্লাইটের সময়, সেবা ও ভাড়ার ভিত্তিতে বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগও বাড়াতে পারে। তবে টিকিটের ভাড়া ভ্রমণের সময়, বুকিংয়ের তারিখ ও যাত্রীচাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
ঢাকা–রিয়াদ ফ্লাইটের গুরুত্ব শুধু সৌদি আরবগামী যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রিয়াদ এয়ার তার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে রিয়াদকে ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশি যাত্রীদের অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগ দেওয়ার সুযোগও বাড়তে পারে।
এক্ষেত্রে রিয়াদে সংযোগের সময়, এয়ারলাইনসটির আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক, টিকিটের মূল্য এবং যাত্রীসেবার মান বাংলাদেশি ট্রানজিট যাত্রী আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থার বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু হওয়াকে তাই ঢাকা–রিয়াদ রুটে শুধু একটি নতুন ফ্লাইট সংযোজন নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে নতুন প্রতিযোগিতা ও সংযোগের সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রিয়াদ এয়ারের দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, প্রবাসী যোগাযোগ এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সূত্র: রিয়াদ এয়ার ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট তথ্য
মন্তব্য করুন