এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে আটক হওয়া নিরাপত্তাপ্রহরী মো. অহিদুর রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বেবিচকের মানবসম্পদ বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস. এম. লাবলুর রহমান।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ১টা ৩০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় সন্দেহজনক আচরণের কারণে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তাপ্রহরী মো. অহিদুর রহমানকে আটক করেন।
পরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করে তিনটি স্বর্ণের বার, সাতটি ভাঙা চুড়ি, তিনটি নেকলেস ও একটি আংটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ছিল ৫৪২ গ্রাম।
এ ছাড়া তাঁর কাছ থেকে এক হাজার ২৫০ সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।
স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় বেবিচকের কর্মচারী চাকরি বিধানমালা, ২০২১-এর বিধি ৫৫(৪) অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
একই সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ডকে চাকরি বিধানমালার বিধি ৪৯(ক) ও ৪৯(খ) অনুযায়ী যথাক্রমে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৪/২০২৫ রুজু করে বেবিচক।
অফিস আদেশে বলা হয়, কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অহিদুর রহমান বিভাগীয় মামলার অভিযোগের লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন।
২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. সেলিম মিয়াকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৬ সালের ২১ মে সংশোধিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
এরপর ৩০ জুন তাঁকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের জবাবে তিনি ১৬ জুলাই লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন।
দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে অহিদুর রহমান উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং কোনো আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেননি।
এ অবস্থায় তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল অথবা ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার আবেদন জানান।
তবে বেবিচকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিভাগীয় অভিযোগ খণ্ডনের মতো গ্রহণযোগ্য যুক্তি বা নতুন প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ ছাড়া বেবিচকের কর্মচারী চাকরি বিধানমালা, ২০২১-এর বিধি ৫৯(১) অনুযায়ী একই বিষয়ে ফৌজদারি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তিতে কোনো বাধা নেই।
বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা, ব্যক্তিগত শুনানি, তদন্ত প্রতিবেদন, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে বেবিচক অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা বিভাগীয় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।
এর ভিত্তিতে বেবিচকের কর্মচারী চাকরি বিধানমালা, ২০২১-এর বিধি ৫০(১)(খ)(উ) অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা হয়।
একই সঙ্গে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৪/২০২৫ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বেবিচকের আদেশ অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তির তথ্য অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্য করুন