হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর আগে ভবনের বিভিন্ন অংশে চিহ্নিত পানি লিকেজসহ নির্মাণসংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্ব ও ব্যয়ে ঠিক করবে।
সম্প্রতি বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক থার্ড টার্মিনাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় টার্মিনালের ছাদ, দরজার গ্যাংওয়েসহ কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি প্রবেশের বিষয়টি তার নজরে আসে। তিনি বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অবহিত করার নির্দেশ দেন, যাতে চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক কাজ সম্পন্ন করা যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক এইচ এম নুরুদ্দিন ঠিকাদারি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছেন। বর্তমানে চিহ্নিত লিকেজ ও অন্যান্য ত্রুটি পর্যায়ক্রমে সংশোধনের কার্যক্রম চলছে।
বেবিচকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরিদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন ত্রুটি বা ‘ডিফেক্ট’ চিহ্নিত করা এবং সেগুলো ঠিকাদারের মাধ্যমে সংশোধন বা ‘রেকটিফিকেশন’ করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রকল্প বুঝে নেওয়ার আগে এ ধরনের ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করতেই নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, “বড় প্রকল্পে এ ধরনের ত্রুটি চিহ্নিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। প্রতিটি প্রকল্পেই ডিফেক্ট আইডেন্টিফাই করে পরবর্তী সময়ে রেকটিফিকেশন করা হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি যথাযথভাবে সংশোধন করা।”
তিনি আরও জানান, অ্যামিকেবল সেটেলমেন্টের আওতায় কোনো নির্মাণগত সমস্যা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই তা সংশোধন করতে হবে। এ কারণে বেবিচকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক দায় পড়ার বিষয় নেই।
বেবিচক চেয়ারম্যানের পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্যও ছিল টার্মিনাল চালুর আগে কোথাও কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তার নির্দেশেই বিষয়গুলো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি কাজের যথাযথ ডকুমেন্টেশন থাকে এবং ঠিকাদার আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধনমূলক কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
বেবিচক সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনালের মতো বৃহৎ ও কারিগরিভাবে জটিল অবকাঠামো পুরোপুরি অপারেশনে যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সংশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বর্তমানে চিহ্নিত বিষয়গুলো সমাধান করা হচ্ছে।
থার্ড টার্মিনাল চালুর আগে প্রয়োজনীয় সব ত্রুটি সংশোধন করে অবকাঠামো ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে বেবিচক গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন