এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বাংলাদেশের এভিয়েশন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের (DfT) সর্বশেষ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বিমানবন্দরটি ৯৮ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। একই মূল্যায়নে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেয়েছে ৯৪ শতাংশ স্কোর।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মূল্যায়নের তুলনায় দুই বিমানবন্দরেরই স্কোর বেড়েছে। গত বছর শাহজালালের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানীর ৯৪ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শাহজালালের স্কোর ১ শতাংশ পয়েন্ট এবং ওসমানীর ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের DfT-এর এই মূল্যায়নে বিশেষভাবে যুক্তরাজ্যগামী যাত্রী ও কার্গোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আওতায় শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী, কার্গো ও মেইল নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সর্বশেষ ফলাফলে ওসমানীর ৯৮ শতাংশ স্কোর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মূল্যায়ন শুধু যাত্রী তল্লাশির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যাত্রী ও ব্যাগেজ স্ক্রিনিং, নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ, কার্গো ও মেইল নিরাপত্তাসহ বিমান চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এর অংশ।
এবারের মূল্যায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো কার্গো নিরাপত্তার Additional Measures Assessment-এ বাংলাদেশের শতভাগ কমপ্লায়েন্স।
বেবিচকের মতে, নির্ধারিত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রতিফলন এই ফলাফল।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য এয়ার কার্গো গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে উচ্চ কমপ্লায়েন্স ধরে রাখা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হলে কার্গো পরিবহনে সময় ও ব্যয়—দুটিই বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের High Risk Cargo and Mail (HRCM) ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী কার্গো ও মেইলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হয়, যা প্রক্রিয়াকরণের সময় ও ব্যয় বাড়ায়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই অতিরিক্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করেছে।
DfT-এর ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির পক্ষে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে HRCM স্ট্যাটাস প্রত্যাহার হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাজ্যের মূল্যায়নের পর বাংলাদেশের এভিয়েশন নিরাপত্তার সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরীক্ষা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিট আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অডিটে বেবিচক সদর দপ্তরের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এভিয়েশন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে।
ফলে DfT মূল্যায়নে দুই বিমানবন্দরের উন্নত স্কোর এবং কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স আসন্ন ICAO অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সূচক।
বেবিচক বলছে, এ অর্জনের পেছনে সংস্থাটির এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভূমিকা রেখেছে।
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তদারকি এবং বেবিচকের বিভিন্ন বিভাগের সহযোগিতা অডিট প্রস্তুতিতে ভূমিকা রেখেছে।
এক বছরের ব্যবধানে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯৪ থেকে ৯৮ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ কমপ্লায়েন্স বাংলাদেশের এভিয়েশন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সামনে ICAO অডিটে এই অগ্রগতি কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
মন্তব্য করুন