এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর পুরোনো এক ও দুই নম্বর টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হলেও সেগুলো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনাসংক্রান্ত চুক্তিতে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর চালু না করার বিষয়ে জাপানের শর্ত মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজন নেই। একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করতেই ১০ থেকে ১২ বছর সময় লাগে। সব মিলিয়ে সেটি চালু করতে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জাপানের দেওয়া শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর বিদ্যমান এক ও দুই নম্বর টার্মিনালের ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলে পুরোনো টার্মিনালগুলোতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট স্থানান্তর করা হবে। এ ছাড়া কার্গো, চার্টার্ড ও ভিভিআইপি ফ্লাইটের কার্যক্রমও রয়েছে। পাশাপাশি বাজেট এয়ারলাইনস চালুর বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে। সেগুলোর কার্যক্রমও পুরোনো টার্মিনালে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
ফলে পুরোনো দুই টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হলেও বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, ভিভিআইপি ফ্লাইটের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর বেশি থাকে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত উড়োজাহাজে সামান্য কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ঢাকা থেকে জাপানে যাওয়ার সময় উড়োজাহাজটি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। তবে জাপান থেকে ফেরার আগে ফ্ল্যাপে সমস্যা শনাক্ত হয়।
তিনি জানান, সফরে অতিরিক্ত পাইলট ও প্রকৌশলী সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। কারিগরি ত্রুটি সারাতে প্রয়োজনীয় সময় নেওয়ার পাশাপাশি তিনবার পরীক্ষামূলক যাচাইয়ের পর প্রধানমন্ত্রীকে বহন করে উড়োজাহাজটি যাত্রা করে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে যে ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, বাস্তবে তেমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্তে প্রকৃত ঘটনাই উঠে এসেছে। ঢাকা থেকে উড়োজাহাজটি স্বাভাবিকভাবে গেলেও জাপান থেকে ফেরার সময় প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সরকার এ ধরনের ত্রুটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে বিমানবহরে আরও নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে লাগেজ ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। অধিকাংশ যাত্রী ২০ মিনিটের মধ্যেই তাঁদের লাগেজ হাতে পাচ্ছেন।
বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।
সূত্র: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর বক্তব্য, ৪ নভেম্বর ২০২৬।
মন্তব্য করুন