এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
আসন্ন দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে ছয় লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে পরিবহন ও নিরাপত্তাব্যবস্থায়ও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দ্য বাংলাদেশ মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাবে কক্সবাজারের আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ছুটির দিনগুলোতে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পর্যটক আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেন। পর্যটকদের বিভিন্ন বাজেট ও চাহিদা অনুযায়ী থাকার জন্য জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজ রয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দিন জানান, তারকামানের হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে সংরক্ষিত হয়েছে। রামুর মারমেইড বিচ রিসোর্টে প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অন্যদিকে বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে অগ্রিম বুকিংয়ের হার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন চলাচলের কথা রয়েছে।
কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদিন জানান, প্রত্যাশিত অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবাব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে জেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন খাতসহ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন