aviation
প্রকাশিত: 29 September 2026, 10:16:23 Pm
অনলাইন সংস্করণ

তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয় বাড়ল ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, পূর্ণাঙ্গ অপারেশনের প্রস্তুতিতে বাড়ল মেয়াদ

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় আরও ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশোধনের পর তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ইতোমধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৯৫ দশমিক ২৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ায় এখন পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, ইমিগ্রেশন সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য অপরিহার্য কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রায় শতভাগ নির্মাণ শেষ, এবার অপারেশনাল প্রস্তুতি

তৃতীয় টার্মিনালের দৃশ্যমান নির্মাণকাজ প্রায় শতভাগ শেষ হলেও একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল চালুর জন্য শুধু ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকাই যথেষ্ট নয়। যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ইমিগ্রেশন, উচ্চগতির ইন্টারনেট, আইটি নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যকর করাও জরুরি।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম শাকিল আকতার জানান, তৃতীয় টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হাই-স্পিড ইন্টারনেটসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্পে ইমিগ্রেশনের কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

তিনি বলেন, “তৃতীয় টার্মিনালের মতো জায়গায় ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটি থাকতে হবে। হাই স্পিড ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটি যদি মিসিং থাকে কিভাবে অপারেশন চলবে? প্রকল্পে ইমিগ্রেশনের ইন্সট্রুমেন্ট মিসিং ছিল।”

এসব অপরিহার্য কাজ সম্পন্ন করতেই প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রক্ষণাবেক্ষণে ৬৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা

ব্যয় সমন্বয়ের একটি বড় অংশ তৃতীয় টার্মিনালের অবকাঠামো ও স্থাপিত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানান, জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ মাসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিতে হচ্ছে।

টার্মিনালটি এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে না গেলেও ইতোমধ্যে স্থাপন করা বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি, সিস্টেম ও অবকাঠামো সচল রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ অপারেশন শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব স্থাপনা কার্যকর অবস্থায় রাখাই এ ব্যয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ঠিকাদারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতেও অর্থ সমন্বয়

প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয়ের আরেকটি অংশ ঠিকাদার পরিবর্তনজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ঠিকাদার পরিবর্তনজনিত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত আপস নিষ্পত্তি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২৯৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অর্থাৎ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে নতুন নির্মাণকাজের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, পূর্ববর্তী আর্থিক দায় এবং প্রকল্পটিকে কার্যকরভাবে অপারেশনের উপযোগী করার বিষয়ও রয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালুর লক্ষ্য

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ হওয়ায় মূল অবকাঠামো নির্মাণ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনের আগে ইমিগ্রেশন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অপেক্ষা না করে ১৬ ডিসেম্বর থেকেই সীমিত পরিসরে নতুন টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু করা।

পূর্ণাঙ্গ চালু হলে বাড়বে বিমানবন্দরের সক্ষমতা

তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম বড় অবকাঠামো উদ্যোগ। নতুন টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে যাত্রী ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ও অন্যান্য বিমানবন্দরসেবায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হবে।

এখন প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ায় নজর থাকবে ১৬ ডিসেম্বরের আংশিক চালু এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনের প্রস্তুতির দিকে। অবশিষ্ট প্রযুক্তিগত ও পরিচালনগত কাজ সম্পন্ন হলে তৃতীয় টার্মিনাল দেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ও যাত্রীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন সক্ষমতা যোগ করবে।

তথ্যসূত্র: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব ও একনেক সভা-পরবর্তী ব্রিফিং।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে বড় বহর সম্প্রসারণে বিমান, বোয়িংয়ের পর এ

1

শাহ মখদুম বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, বাড়ছ

2

আশকোনা হজ ক্যাম্পে বিমানের টিকিট কাউন্টারের নতুন সময়সূচি, সে

3

উড়োজাহাজে ঘুমন্ত যাত্রীর মাথায় ধাতব পানির বোতল, ব্রিটিশ এয়ার

4

দেড় বছরের বেশি সময় পর মস্কোয় ফিরল সিরিয়ান এয়ারলাইন্স, দামেস্

5

১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর, অংশ নিচ্ছে ১০

6

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে চীনের তিন বৃহৎ এয়ারলাইন্স, বছর

7

একই ফ্লাইটের ৫ যাত্রীর ব্যাগে বিদেশি মদ, শাহজালালে আটক ২৪ লি

8

আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ, ব্যয় হবে কয়েক বিলিয়ন ডলার

9

শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে বসছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেট

10

কর্মস্পৃহা বাড়াতে লাঞ্চ ভাতা চান বেবিচক কর্মকর্তারা

11

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৪ ফ্লাইট

12

আকাশে উড়ল বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ ‘এক্স১’

13

পাকিস্তান-মস্কো সরাসরি আকাশ যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ, শিগগির ফ্ল

14

বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে দুবাই, ঢাকায় সরাসরি

15

ICAO অডিট সামনে, নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে হবে: মন্ত্রী আফর

16

ট্রাস্ট ব্যাংক কার্ডে সি পার্ল বিচ রিসোর্টে সর্বোচ্চ ৫৩ শতাং

17

এফএএর ছাড়পত্র পেল বোয়িং ৭৩৭-৭, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনার

18

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের হাতে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনসের পুরস্কার

19

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ ফ্লাইটে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত

20