২০২৭ সালের পবিত্র হজের নিবন্ধনে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বছরের মতো এবারও কোটা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিত নতুন বিমান চলাচল সমঝোতা হজযাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
সৌদি সরকার ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশকে এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রীর কোটা দিয়েছে। গত বছরও একই পরিমাণ কোটা থাকলেও প্রায় ৮০ হাজার বাংলাদেশি হজ পালন করেন। এবার ২৭ জুলাই নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর প্রথম ১৫ দিনে মাত্র ১১২ জন প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হজ এজেন্সিগুলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানভাড়া কিছুটা কমানো হলেও সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন, ক্যাটারিং ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হজের মোট খরচ কমেনি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবারের তুলনায় সরকারি প্যাকেজের খরচ বেড়েছে ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার খাবারের খরচ প্যাকেজে যুক্ত হওয়া, মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ‘ডি ক্যাটাগরি’ প্রত্যাহার এবং রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে বিমানভাড়া কমার পরও সামগ্রিক ব্যয় বেড়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, যারা হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হজের ব্যয় কমাতে সৌদি সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং সামনে আরও আলোচনা হবে।
হজযাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে এবার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশ-সৌদি আরব বিমান যোগাযোগে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরে দুই দেশের মধ্যে নতুন বিমান চলাচল সমঝোতা হয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, আগে দুই দেশের মধ্যে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল। নতুন সমঝোতায় তা বেড়ে ৮৫টিতে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত আসন সক্ষমতা তৈরির পাশাপাশি টিকিট সংকট ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে হজ ও ওমরাহ মৌসুমে নতুন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতি বছর হজের শেষ পর্যায়ে স্লট সংকট, ফ্লাইট পুনঃতফসিল এবং পরিচালনাগত জটিলতায় যে ভোগান্তি তৈরি হয়, নতুন সমঝোতার ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে সুবিধাজনক স্লট নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধনের হার এখন কম হলেও শেষ সময়ে হজযাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে। সে পরিস্থিতিতে পরিবহন সক্ষমতার ঘাটতি যেন তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হজ ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় রোধ এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে হজ এজেন্সিগুলোর মতে, শুধু বিমানভাড়া ও ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়ালেই হজের সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না। সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন, ক্যাটারিং ও অন্যান্য সেবার ব্যয় নিয়েও কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন। নিবন্ধনের গতি বাড়াতে হজের মোট ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন