শাহজালালে ১১ বছর ধরে পড়ে ১২ উড়োজাহাজ, সরাতে আন্তর্জাতিক নিলামের উদ্যোগ বেবিচকের
aviation
প্রকাশিত: 3 October 2026, 11:44:56 Am
|অনলাইন সংস্করণ
এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্রোন এলাকায় প্রায় ১১ বছর ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ সরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্ত করা হলেও একাধিকবার বিক্রির উদ্যোগ সফল না হওয়ায় এবার ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রে বিক্রির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে এগুলো এখন কার্যত scrap হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—১২টি উড়োজাহাজ শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট operational area দখল করে রেখেছে। এগুলো অপসারণ করা গেলে আনুমানিক ১২টি aircraft parking bay ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কোন এয়ারলাইন্সের কয়টি উড়োজাহাজ
পরিত্যক্ত ১২টি উড়োজাহাজই বর্তমানে বন্ধ বা কার্যক্রমহীন হয়ে পড়া বেসরকারি airline operator-এর।
এর মধ্যে—
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ — ৮টি
রিজেন্ট এয়ারওয়েজ — ২টি
জিএমজি এয়ারলাইন্স — ১টি
আরেকটি বন্ধ বেসরকারি অপারেটরের — ১টি
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে চতুর্থ অপারেটরের নাম নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে—কোথাও Avien/Aviana Charter, আবার কোথাও Angel Airways বলা হয়েছে। ফলে বেবিচকের মূল নথি ছাড়া চতুর্থ উড়োজাহাজটির মালিকানা নিশ্চিত করে লেখা সমীচীন নয়।
উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে Dash-8, MD-83 এবং Boeing 737-300-এর মতো পুরোনো aircraft type রয়েছে।
উড়োজাহাজ থেকে এখন ‘স্ক্র্যাপ’
দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে একটি aircraft খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে সেটির commercial value দ্রুত কমতে থাকে।
Aircraft storage-এর জন্য শুধু একটি উড়োজাহাজ নির্দিষ্ট জায়গায় park করে রাখাই যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে আবার operation-এ ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্য থাকলে engine, hydraulic system, avionics, landing gear, flight control এবং aircraft structure রক্ষায় নির্দিষ্ট preservation ও maintenance procedure অনুসরণ করতে হয়।
শাহজালালে পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে deterioration হওয়ায় সেগুলো পুনরায় commercial operation-এ ফেরানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেছেন, বাস্তবে উড়োজাহাজগুলো এখন scrap-এ পরিণত হয়েছে এবং বিমানবন্দরের operational activities-তেও বাধা সৃষ্টি করছে।
কেন ভিত্তিমূল্য ছাড়াই বিক্রি করতে চায় বেবিচক
এবারের উদ্যোগের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিষয় হচ্ছে reserve/base price নির্ধারণ না করে international open tender আয়োজনের প্রস্তাব।
বেবিচকের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এসব পুরোনো aircraft-এর valuation করার সক্ষম প্রতিষ্ঠান নেই। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে valuation করাতে যে অর্থ ব্যয় হতে পারে, তা শেষ পর্যন্ত aircraft বিক্রি করে পাওয়া অর্থের তুলনায় বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণেই আলাদা করে ব্যয়বহুল valuation করানোর পরিবর্তে competitive international tender-এর মাধ্যমে বাজার থেকেই সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দর পাওয়ার পথ বিবেচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করার কথা রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কেজি দরেও বিক্রি হতে পারে
উড়োজাহাজ হিসেবে অথবা reusable spare parts-এর জন্য উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া না গেলে শেষ পর্যন্ত এগুলো ওজনের ভিত্তিতে scrap material হিসেবেও বিক্রি হতে পারে।
এর আগেও বেবিচকের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নিলামে aircraft হিসেবে ক্রেতা না পাওয়া গেলে কেজি দরে বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
Aircraft scrap-এর মধ্যে aluminium alloy, steel ও অন্যান্য recyclable material থাকতে পারে। তবে dismantling-এর সময় fuel residue, oil, hydraulic fluid, battery এবং অন্যান্য potentially hazardous material যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ aircraft বিক্রি হলেই কাজ শেষ নয়; airport operational area থেকে নিরাপদে dismantling ও removal-এর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালেই বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ১২ উড়োজাহাজ
পরিত্যক্ত aircraft সরানোর প্রক্রিয়াটি নতুন নয়।
সংশ্লিষ্ট airline-গুলোকে উড়োজাহাজ সরিয়ে নিতে একাধিকবার বলা হলেও তা না করায় দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ২৬ মে aircraftগুলো বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক।
Civil Aviation Rules, 1984-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় বকেয়া পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় renewal করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এগুলো বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল।
এর আগেও দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উড়োজাহাজগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত buyer না পাওয়ায় aircraftগুলো airport apron-এই পড়ে থাকে।
প্রায় ২ লাখ বর্গফুট জায়গা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
Airport apron সাধারণ কোনো খালি জায়গা নয়।
Terminal-এর সামনে বা আশপাশের এই controlled operational area-তে aircraft parking, passenger boarding, cargo loading-unloading, refuelling, ground handling এবং aircraft servicing-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ফলে apron-এর বড় একটি অংশ দীর্ঘ সময় unusable অবস্থায় থাকলে airport-এর aircraft parking flexibility কমে যেতে পারে।
শাহজালালে পরিত্যক্ত aircraft ও সংশ্লিষ্ট ground support equipment প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে রয়েছে। আগের নথিতে এগুলো সরানো গেলে আনুমানিক ১২টি parking bay প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অর্থাৎ বিষয়টি শুধু পুরোনো উড়োজাহাজ বিক্রি করে কিছু অর্থ আদায়ের নয়; এর সঙ্গে airport capacity ও operational efficiency-ও জড়িত।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, aircraftগুলো cargo operation, aircraft parking, export goods handling এবং ভবিষ্যৎ expansion-এর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
বিশেষ করে শাহজালালের নতুন অবকাঠামো ও cargo handling capacity সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে apron space-এর সর্বোচ্চ ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পরিত্যক্ত aircraft সরিয়ে জায়গাটি operational use-এ ফেরানো গেলে cargo aircraft parking এবং সংশ্লিষ্ট ground operation-এর জন্য অতিরিক্ত flexibility পাওয়া যেতে পারে।
বকেয়া অর্থ নিয়ে রয়েছে বড় অসঙ্গতি
পরিত্যক্ত aircraft-এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট airlineগুলোর কাছে বেবিচকের বিপুল পরিমাণ পাওনার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
কিছু প্রতিবেদনে চার প্রতিষ্ঠানের কাছে parking charge, surcharge ও অন্যান্য পাওনা মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া থাকার কথা বলা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক আরেকটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে।
সেখানে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত—
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে ৩৯১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা,
রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে ৪৫৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং
জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে ৪১১ কোটি ৮১ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে।
এই তিন প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। চতুর্থ প্রতিষ্ঠানের বকেয়ার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ওই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ফলে ‘মোট বকেয়া ৪ হাজার কোটি টাকা’ অঙ্কটি বেবিচকের হালনাগাদ হিসাব বা সংশ্লিষ্ট নথি ছাড়া নিশ্চিত মোট পাওনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
উড়োজাহাজ বিক্রি করলেই কি বকেয়া উঠে আসবে?
বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
একটি operational aircraft-এর বাজারমূল্য এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা, airworthy নয় এমন aircraft-এর scrap value এক বিষয় নয়।
এসব aircraft এতদিন পড়ে থেকে কার্যত scrap-এ পরিণত হওয়ায় নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ airlineগুলোর বিপুল outstanding dues-এর তুলনায় অনেক কম হতে পারে।
অর্থাৎ aircraft disposal-এর প্রধান সুবিধা শেষ পর্যন্ত বকেয়া পুরোপুরি উদ্ধার করার চেয়ে airport-এর মূল্যবান operational space পুনরুদ্ধার হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আগেও নিলামের চেষ্টা, মেলেনি ক্রেতা
এই ১২টি aircraft সরাতে গত কয়েক বছরে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগের নিলাম ও tender process-এ গ্রহণযোগ্য buyer না পাওয়ায় সেগুলো সরানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার সঙ্গে aircraftগুলোর physical condition আরও খারাপ হয়েছে এবং commercial resale potential-ও কমেছে।
এ কারণেই এবার traditional aircraft sale-এর পরিবর্তে base price ছাড়া international open tender এবং প্রয়োজনে scrap হিসেবে বিক্রির মতো বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।
১১ বছরের জট খুললে বড় সুবিধা অপারেশনে
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর। এখানে প্রতিটি aircraft parking bay এবং apron space operational planning-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সেই বিমানবন্দরে প্রায় দুই লাখ বর্গফুট জায়গা দীর্ঘ বছর ধরে অচল aircraft-এর দখলে থাকা শুধু সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি airport capacity management-এরও বিষয়।
বর্তমান উদ্যোগ সফল হলে ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজের দীর্ঘদিনের জট শেষ হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট operational space পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।
সব aircraft ও ground equipment সরানো এবং প্রয়োজনীয় apron restoration শেষ হলে জায়গাটি নতুন aircraft parking bay, cargo handling কিংবা বিমানবন্দরের অন্য operational requirement-এ ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এখনো আন্তর্জাতিক দরপত্রে বিক্রি সম্পন্ন হয়নি। বেবিচক ভিত্তিমূল্য ছাড়া আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়েছে—বর্তমান প্রক্রিয়াটি এই পর্যায়েই রয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
বিমানের কাছে বেবিচক-পদ্মা অয়েলের পাওনা ৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা
1
ভারতীয় শাড়ির আড়ালে কুশ পাচার, শাহজালালে দুই ভারতীয় নাগরিক গ্
2
বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি কবে আবার চালু হবে?
3
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের হাতে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইনসের পুরস্কার