aviation
প্রকাশিত: 30 October 2026, 11:49:01 Am
অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা, হবে ৪.২ কিলোমিটার রানওয়ে

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার ভাল (Vaal) অঞ্চলে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন প্রকল্পটির উদ্যোক্তারা। দেশটির ভ্যান্ডারবিজলপার্ক (Vanderbijlpark) শহরের কাছে প্রস্তাবিত ‘ভাল অ্যারোট্রোপলিস’ (Vaal Aerotropolis) প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, কার্গো টার্মিনাল এবং বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাল অঞ্চলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

তবে প্রকল্পটি এখনো পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় ৪.২ কিলোমিটার রানওয়ের পরিকল্পনা

প্রকল্প উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরে ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আন্তর্জাতিক রানওয়ে নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরটিতে যাত্রী পরিবহনের জন্য পৃথক টার্মিনাল এবং আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের জন্য কার্গো টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসার জন্য বিশেষ অঞ্চল (Agri-zone), বাণিজ্যিক স্থাপনা, অফিস, হোটেল ও আতিথেয়তাসেবা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বিমান পরিবহনের পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন খাতেও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উদ্যোক্তারা।

১৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রকল্প উদ্যোক্তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের সময় প্রায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে বিমানবন্দরটি চালু হওয়ার পর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আরও প্রায় ছয় হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রকল্পটি নির্মাণ ও পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ১৮ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন উদ্যোক্তারা।

তবে এসব সংখ্যা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পূর্বাভাস। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও বিনিয়োগের ওপর প্রকৃত কর্মসংস্থানের পরিমাণ নির্ভর করবে।

আন্তর্জাতিক কার্গো ও লজিস্টিকস হাব গড়ার লক্ষ্য

প্রস্তাবিত ভাল অ্যারোট্রোপলিস প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা।

বিমানবন্দরের সঙ্গে কার্গো টার্মিনাল, কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল এবং বাণিজ্যিক অবকাঠামো যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এসব সুবিধা চালু হলে আকাশপথে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিমানবন্দর চালু করতে প্রয়োজন বড় বিনিয়োগ

নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য শুধু রানওয়ে ও টার্মিনাল স্থাপনই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি, অন্যান্য ইউটিলিটি এবং বিমানবন্দর পরিচালনার প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও পরিচালনগত শর্ত পূরণ করতে হবে।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজ শুরু কিংবা পরিচালনার নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

কাছের বিমানবন্দরের লাইসেন্স বাতিলের ঘটনা

প্রস্তাবিত বিমানবন্দর প্রকল্পের অগ্রগতির মধ্যেই ভাল অঞ্চলের বিদ্যমান বিমান চলাচল অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে কাছাকাছি অবস্থিত ভেরিনিগিং বিমানবন্দর (Vereeniging Airport) নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরিচালনার লাইসেন্স হারায়।

এ ঘটনা নতুন বিমানবন্দর প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে।

স্থানীয় অর্থনীতিতে পরিবর্তনের আশা

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত সমস্যার মুখোমুখি দক্ষিণ আফ্রিকার এমফুলেনি (Emfuleni) অঞ্চলের জন্য নতুন বিমানবন্দর প্রকল্পটিকে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, প্রকল্পটির সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে পরিবেশগত ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, অর্থায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে হবে।

এখন পর্যন্ত ভাল অ্যারোট্রোপলিস একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প। নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় বিমানবন্দরটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ভাল অ্যারোট্রোপলিস প্রকল্পের পরিকল্পনা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাহজালালে গুলিভর্তি ব্যাগ: নিরাপত্তায় গাফিলতিতে কঠোর অবস্থান

1

NCASC-এর ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত, আসন্ন ICAO Audit সামনে রেখে এভিয়

2

শাহজালালের নিরাপত্তা পেরিয়ে ৩১ রাউন্ড গুলিভর্তি ব্যাগ বিমানে

3

তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা চুক্তিতে নতুন মাইলফলক, ২৫ আগস্ট প

4

১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ার উপলক্ষে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ ভিসা সু

5

বিমানের উড়োজাহাজে তেলাপোকা-ছারপোকার অভিযোগ, তদন্তের পর ৭ দফা

6

২০২৭ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হবে আরও ২১ উড়োজাহাজ, ইউএস-বাংলার

7

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর, কফিল বদলালেও নবায়ন হবে আকা

8

শূন্য খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেবে মালয়েশিয়া, শিগগিরই

9

বিমানবন্দরের সামনে ভিক্ষার অভিনব কৌশল: দেশের ভাবমূর্তিতে নেত

10

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে প্রথম বোর্ডিং ব্রিজ ব

11

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান, সুযোগ কৃষি ও মৎস্য খ

12

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, অনিশ্চয়তায়

13

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালালে যাত্রী ধারণক্ষমতা বেড়ে হব

14

বিদেশি স্টেশনে অনিয়ম-সমন্বয়হীনতার অভিযোগ, শৃঙ্খলা ফেরাতে নতু

15

২৫ আগস্ট প্রস্তাব দেবে জাপানি কনসোর্টিয়াম, সেপ্টেম্বরের শেষে

16

বেবিচকে ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডের অপেক্ষমাণ তালিকার ফল প্রকাশ,

17

কক্সবাজার বিমানবন্দরে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’ পালিত

18

নিরাপত্তায় বদলে যাচ্ছে শাহজালাল, নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

19

বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি, পর্যটনকে বিশ্ব

20