হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন হতে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি নতুন টার্মিনাল ভবন নয়; বরং দেশের বিমান পরিবহন, যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম ভিত্তি। যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের আগ্রহ এবং বৈশ্বিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে এই টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তার পরিকল্পিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রতিদিন শত শত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার কারণে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ ডেলিভারি, বোর্ডিং গেট এবং অন্যান্য সেবায় চাপ তৈরি হয়। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এই চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং যাত্রীদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
নতুন টার্মিনালে আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, অধিকসংখ্যক চেক-ইন কাউন্টার, উন্নত নিরাপত্তা স্ক্যানিং ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বোর্ডিং গেট, আধুনিক অ্যারোব্রিজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর যাত্রীসেবা চালু হবে। এর ফলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমবে, লাগেজ দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
তৃতীয় টার্মিনালের আরেকটি বড় সুবিধা হবে কার্গো পরিচালনায়। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের একটি বড় অংশ আকাশপথে পরিবহন করা হয়। আধুনিক কার্গো সুবিধা চালু হলে দ্রুত পণ্য খালাস, উন্নত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের হ্যান্ডলিং নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে।
শুধু যাত্রীসেবা নয়, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশে আরও নতুন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করা এবং ভবিষ্যতে ট্রানজিট যাত্রী আকর্ষণের সম্ভাবনাও বাড়বে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর সফল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন, দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সুষ্ঠু Operational Readiness and Airport Transfer (ORAT) কার্যক্রম। এসব বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান চলাচল খাতে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।
সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে তৃতীয় টার্মিনাল অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি চালু হলে শুধু যাত্রীসেবার মানই বাড়বে না, বরং বাণিজ্য, পর্যটন, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবেই তৃতীয় টার্মিনালকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন