বাংলাদেশের এয়ার কার্গো পরিবহন ও রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নতুন বিমান চলাচল সমঝোতা। নতুন সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় দুই দেশের মধ্যে সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকারের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিসহ নির্ধারিত গন্তব্যে কার্গো সেবা পরিচালনার সুযোগ পাবে বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এ সময় বেবিচকের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সমঝোতার ফলে তৈরি পোশাক, তাজা শাকসবজি, ফলমূলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানিপণ্য দ্রুত সৌদি আরবের বাজারে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়বে। নিয়মিত কার্গো ফ্লাইটের সুযোগ দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার ও পরিবহন সক্ষমতা তৈরিতে সহায়ক হবে।
সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ‘Fifth Freedom Traffic Rights’। এর আওতায় বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিসহ নির্ধারিত তৃতীয় দেশের গন্তব্যে কার্গো পরিবহনের সুযোগ পাবে। এর ফলে সৌদি আরবকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপের বাজারে পরিবহনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বেবিচক মনে করছে, এই সুবিধা বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশকে একটি কার্যকর আঞ্চলিক কার্গো সংযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি সরকারের রপ্তানিমুখী নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
নতুন সমঝোতায় যাত্রী পরিবহনেও বড় পরিসরে সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলোর সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অনুমোদিত সংখ্যা ৪৯ থেকে বাড়িয়ে ৮৪ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন এবং লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে এয়ারলাইনগুলো চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের নেটওয়ার্ক ও পরিবহন সক্ষমতা আরও নমনীয়ভাবে সম্প্রসারণ করতে পারবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এই সমঝোতা যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো, রপ্তানি বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিমান সংযোগে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এটি বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে একটি কার্যকর আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন