বিমান ভ্রমণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক যাত্রীরই প্রশ্ন—কীভাবে কম দামে বা সাশ্রয়ী মূল্যে এয়ারলাইন্সের টিকিট পাওয়া যায়? ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কৌশল অনুসরণ করলে একই রুটে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক রুটে সাধারণত ২ থেকে ৪ মাস আগে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ আগে টিকিট কিনলে তুলনামূলক কম ভাড়া পাওয়া যায়। ভ্রমণের একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকিটের দাম অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায়।
শুক্রবার, শনিবার বা ঈদ, পূজা, স্কুল ছুটির মতো ব্যস্ত সময়ে ভাড়া বেশি থাকে। সম্ভব হলে সপ্তাহের মাঝামাঝি বা কম চাহিদার দিনে ভ্রমণ করলে সাশ্রয়ী ভাড়া পাওয়া যেতে পারে।
একই গন্তব্যে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ভাড়া ভিন্ন হতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে কয়েকটি এয়ারলাইন্স ও বিশ্বস্ত ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে ভাড়া মিলিয়ে দেখা ভালো।
অনেক এয়ারলাইন্স বিশেষ দিবস, ট্রাভেল ফেয়ার বা মৌসুমি ক্যাম্পেইনে ছাড় দেয়। তাদের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর রাখলে এসব অফারের খবর পাওয়া যায়।
বিভিন্ন অনলাইন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট রুটের জন্য Price Alert চালু করলে ভাড়া কমলেই নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। এতে সঠিক সময়ে টিকিট কেনা সহজ হয়।
কম ভাড়ার টিকিটে অনেক সময় লাগেজ সুবিধা সীমিত থাকে। পরে অতিরিক্ত ব্যাগেজ যোগ করলে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে ব্যাগেজ সুবিধা যাচাই করা জরুরি।
যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তারা এয়ারলাইন্সের Frequent Flyer Programme-এ যুক্ত হলে পয়েন্ট জমিয়ে ভবিষ্যতে ছাড় বা বিনামূল্যে টিকিট পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
সময় কিছুটা বেশি লাগলেও অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ফ্লাইটের তুলনায় ট্রানজিট ফ্লাইটের ভাড়া কম হয়।
অনেকে মনে করেন, ফ্লাইট ছাড়ার আগে টিকিটের দাম কমে যায়। বাস্তবে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক রুটে শেষ মুহূর্তে ভাড়া বরং বেড়ে যায়, বিশেষ করে জনপ্রিয় গন্তব্যে।
এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, অনুমোদিত সেলস অফিস বা বিশ্বস্ত ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট কিনলে প্রতারণার ঝুঁকি কম থাকে এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তন বা রিফান্ড করাও সহজ হয়।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান টিকিটের মূল্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে চাহিদা, আসনসংখ্যা, বুকিংয়ের সময় এবং ভ্রমণের মৌসুম। তাই কম দামে টিকিট পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সময় নেই। বরং আগাম পরিকল্পনা, ভাড়া তুলনা এবং অফারের সুযোগ কাজে লাগানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভারত ও ইউরোপগামী যাত্রীরা যদি ভ্রমণের পরিকল্পনা আগেভাগে করেন এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অফার নিয়মিত অনুসরণ করেন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন