aviation
প্রকাশিত: 29 September 2026, 10:08:34 Am
অনলাইন সংস্করণ

রানওয়ের শেষ প্রান্তে গিয়ে উড়ল ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭, পরে মিউনিখে জরুরি অবতরণ

এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক

জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দরে টেকঅফের সময় গুরুতর দুর্ঘটনার মুখে পড়ে ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের একটি Boeing 787-9 Dreamliner। রানওয়েতে takeoff roll-এর সময় উড়োজাহাজটির acceleration অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে এবং দুই দফায় গতি কমে যায়। শেষ পর্যন্ত রানওয়ের শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে ঘাসের অংশে যাওয়ার পর উড়োজাহাজটি আকাশে ওঠে। এ সময় aircraft-এর পেছনের অংশ মাটিতে আঘাত করে এবং landing gear-এর একাধিক টায়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জার্মানির তদন্ত কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘accident’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

গত ১৫ আগস্ট মিউনিখ থেকে হ্যানয়ের উদ্দেশে Vietnam Airlines Flight VN34 পরিচালনার সময় ঘটনাটি ঘটে। উড়োজাহাজটিতে ২৭১ জন যাত্রী ও ১৬ জন ক্রুসহ মোট ২৮৭ জন ছিলেন। গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হলেও সবাই নিরাপদ ছিলেন।

মাঝপথে দুই সেকেন্ডের জন্য বাড়ছিল না গতি

ভিয়েতনামের Civil Aviation Authority (CAAV)-এর প্রাথমিক তথ্যে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্ত উঠে এসেছে।

ক্রুদের দেওয়া প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, Munich Airport-এর Runway 26L দিয়ে টেকঅফের সময় রানওয়ের প্রায় মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর aircraft-এর গতি প্রায় দুই সেকেন্ডের জন্য আর বাড়ছিল না।

এরপর আবার acceleration শুরু হয় এবং aircraft V1 speed-এ পৌঁছায়। কিন্তু এর পরই গতি আবার কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন পাইলটরা।

V1 হচ্ছে takeoff-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ decision speed। সাধারণভাবে এই পর্যায়ের পর গুরুতর প্রয়োজন ছাড়া takeoff reject না করে তা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, কারণ অবশিষ্ট runway-তে aircraft নিরাপদে থামানোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।

রানওয়ের শেষ প্রান্তেও আকাশে ওঠেনি উড়োজাহাজ

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বুঝতে পারার সময় নিরাপদে takeoff বাতিল করে aircraft থামানোর জন্য পর্যাপ্ত runway আর অবশিষ্ট ছিল না। ফলে ক্রুরা takeoff চালিয়ে যান।

প্রথম দিকের প্রতিবেদনে aircraft রানওয়ের প্রায় ৩০০ ফুট বাকি থাকতে rotation শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী তথ্য আরও গুরুতর চিত্র তুলে ধরেছে।

Flight-tracking ও ঘটনাস্থলের তথ্য অনুযায়ী, Boeing 787-9টি Runway 26L-এর শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে প্রায় ১২০ মিটার বা ৪০০ ফুট এগিয়ে যাওয়ার পর পুরোপুরি airborne হয়। এ সময় এটি runway-এর বাইরে grass area-তে চলে গিয়েছিল এবং runway lighting-ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফলে ঘটনাটিকে শুধু ‘রানওয়ের ৩০০ ফুট বাকি থাকতে উড্ডয়ন’ হিসেবে বর্ণনা করলে প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না।

টেকঅফের সময় ঘটে টেল স্ট্রাইক

Aircraftটি আকাশে ওঠার সময় এর পেছনের fuselage মাটিতে আঘাত করে—যাকে aviation terminology-তে tail strike বলা হয়।

জার্মানির Federal Bureau of Aircraft Accident Investigation (BFU)-এর প্রাথমিক তথ্যে tail strike নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার হিসাবে aircraftটির ক্ষয়ক্ষতিও ‘substantial’ পর্যায়ের।

Tail strike সাধারণত aircraft rotation-এর সময় rear fuselage বা tail অংশ runway বা মাটির সঙ্গে স্পর্শ করলে ঘটে। এর ফলে aircraft skin থেকে শুরু করে structural component পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে VN34-এর ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে takeoff acceleration অস্বাভাবিক হয়েছিল এবং সেটি কীভাবে tail strike ও runway excursion-এর দিকে নিয়ে গেছে, তা এখনো তদন্তাধীন।

ককপিটে আসে টায়ার প্রেসারের সতর্কতা

আকাশে ওঠার পর cockpit-এ tail strike এবং tyre pressure-সংক্রান্ত warning পাওয়া যায়। এরপর ক্রুরা Air Traffic Control-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে মিউনিখে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের জন্য aircraft-এ বিপুল পরিমাণ fuel থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অবতরণ না করে ওজন কমানোর প্রয়োজন হয়।

এ কারণে উড়োজাহাজটি আকাশে অবস্থান করে fuel jettison করে। পরে landing gear-এর অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি low approach-ও পরিচালিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর aircraftটি মিউনিখে ফিরে নিরাপদে অবতরণ করে।

চারটি টায়ারের চাপ হারায়

পরবর্তী পরীক্ষায় aircraftটির main landing gear-এর আটটি টায়ারের মধ্যে চারটি চাপ হারানোর তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে rear fuselage-এর নিচের অংশে scraping এবং aircraft skin-এ উল্লেখযোগ্য ক্ষতি শনাক্ত হয়।

অবতরণের সময় landing gear থেকে ধোঁয়া বের হতেও দেখা যায়। aircraftটি নিজে থেকে runway ছাড়তে না পারায় মিউনিখ বিমানবন্দরের একটি runway সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

তারপরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ২৭১ যাত্রী ও ১৬ ক্রুর কেউ আহত হননি।

কেন V1-এর পর টেকঅফ বাতিল করা কঠিন

VN34-এর ঘটনাটি বোঝার ক্ষেত্রে V1 বা takeoff decision speed গুরুত্বপূর্ণ।

একটি উড়োজাহাজের takeoff performance আগে থেকেই aircraft weight, runway length, temperature, wind, runway condition এবং engine performance-সহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে হিসাব করা হয়।

V1-এর আগে বড় ধরনের সমস্যা শনাক্ত হলে পাইলটের কাছে rejected takeoff করে runway-এর মধ্যে aircraft থামানোর সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু V1 অতিক্রম করার পর takeoff reject করলে runway-এর মধ্যে থামা সম্ভব নাও হতে পারে।

VN34-এর crew account অনুযায়ী, দ্বিতীয়বার গতি কমে যাওয়ার সময় aircraft ইতোমধ্যে V1 অতিক্রম করেছিল এবং নিরাপদে থামানোর মতো পর্যাপ্ত runway ছিল না। তাই takeoff চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘ব্রেকিং সমস্যা’ এখনো নিশ্চিত কারণ নয়

ঘটনার পর aircraft-এর braking system নিয়ে বিভিন্ন সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে। কিছু তথ্য ও দৃশ্যমান প্রমাণে runway-এর শেষ অংশে wheel braking বা tyre-related abnormality-এর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে ব্রেকিং সিস্টেমের ত্রুটিই দুর্ঘটনার কারণ ছিল—এমন সিদ্ধান্ত এখনো তদন্তকারীরা দেননি।

একইভাবে engine performance, aircraft configuration, takeoff calculation অথবা অন্য কোনো technical বা operational factor-এর ভূমিকা ছিল কি না, তাও চূড়ান্ত তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

জার্মানির BFU তদন্ত করছে

ঘটনার মূল তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে জার্মানির Federal Bureau of Aircraft Accident Investigation (BFU)। সংস্থাটি flight data recorder ও cockpit voice recorder-এর তথ্য বিশ্লেষণ করছে।

ভিয়েতনামের aviation authority-ও জার্মান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। ভিয়েতনাম সরকার ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট operational বিষয়গুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।

Aircraft manufacturer Boeing এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত পক্ষগুলোও তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ, crew action বা system failure-কে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ হবে না।

‘Incident’ নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘Accident’

ঘটনাটিতে কেউ আহত না হলেও aircraft-এর substantial damage হওয়ায় জার্মান তদন্ত কর্তৃপক্ষ এটিকে সাধারণ technical incident হিসেবে নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে aircraft accident হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

Aviation safety investigation-এ দুর্ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস শুধু হতাহত হয়েছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে না। Aircraft-এর structural damage-এর মাত্রাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

VN34-এর ক্ষেত্রে ২৮৭ জন আরোহীর সবাই নিরাপদে ফিরে আসা বড় স্বস্তির বিষয়। তবে takeoff roll-এ অস্বাভাবিক acceleration, runway excursion, tail strike এবং একাধিক tyre damage—সব মিলিয়ে ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ aviation safety investigation-এ পরিণত হয়েছে।

এখন flight recorder data, aircraft systems এবং crew actions বিশ্লেষণের মাধ্যমে কেন Boeing 787-9টি স্বাভাবিকভাবে takeoff speed অর্জন করতে পারেনি, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়গুলোর একটি।

সূত্র: জার্মান Federal Bureau of Aircraft Accident Investigation (BFU), Civil Aviation Authority of Vietnam (CAAV) ও Vietnam Airlines

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভূমিকম্পের ক্ষতি কাটিয়ে দ্রুত চালুর পথে কারাকাসের সিমন বলিভ

1

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সচল তেহরানের প্রধান বিমানবন্দর, ৩

2

ইরানি ফ্লাইট বন্ধে সহযোগিতা করলে প্রতিবেশী দেশের বিমানবন্দর

3

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় চূড়ান্ত নেগোশিয়েশন শুরু আজ, আলোচনা

4

সবুজ এভিয়েশনের পথে বাংলাদেশ, টেকসই বিমান জ্বালানি (SAF) ব্যব

5

কারিগরি ত্রুটিতে ফিটস এয়ারের ফ্লাইটে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা, যাত্রী

6

সক্ষমতা ৮০ লাখ, যাত্রী ১ কোটি ২৬ লাখের বেশি—চাপ সামলেও সচল শ

7

বৈশ্বিক এভিয়েশনের দুই স্তম্ভ: আইকাও ও আইয়াটার কাজের পরিধি ও

8

পাকিস্তানের আকাশসীমা জটিলতা কাটিয়ে শুক্রবার ঢাকায় আসছে রূপপু

9

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে চীনের সঙ্গে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত:

10

বৈরী আবহাওয়ায় কাঠমান্ডুতে নামতে ব্যর্থ China Eastern-এর ফ্লা

11

ফ্লাইটে দুই যাত্রীর হুমকি, সহযাত্রীদের হাতে আটক

12

বোয়িং কিনতে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের প্রশংসা, তারেক র

13

একই ফ্লাইটের ৫ যাত্রীর ব্যাগে বিদেশি মদ, শাহজালালে আটক ২৪ লি

14

লোকসানের ইতিহাস নিয়েই ফের আকাশে ম্যানচেস্টার ও নারিতা রুট

15

জুলাইয়ে ৫৩ উড়োজাহাজ সরবরাহ বোয়িংয়ের, সাত মাসে বেড়েছে ১২ শতাং

16

লন্ডন থেকে বাংলাদেশগামী বিমানের ফ্লাইটে দুই যাত্রীর মারামারি

17

তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে বড় প্রস্তুতি, ২০২৭ সালের মধ্যে ৪০ নতুন

18

তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের শেষ মুহূর্তে পুরোনো ইস্যু কেন সামন

19

শাহজালালে সোনা চোরাচালান থামছেই না: পাঁচ বছরে জব্দ প্রায় ২ হ

20