এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দুবাই ও সৌদি আরবের রিয়াদে যাত্রীবাহী ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে হংকংভিত্তিক ক্যাথেই প্যাসিফিক (Cathay Pacific)। এয়ারলাইনটির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই গন্তব্যে ফ্লাইট ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাতিল থাকবে। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ঘোষণায় ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল রাখার কথা জানিয়েছিল এয়ারলাইনটি।
অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের তথ্যটি ৪ সেপ্টেম্বরের ঘোষণার ক্ষেত্রে সঠিক হলেও, বর্তমানে সেটি আর সর্বশেষ অবস্থা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২৮ সেপ্টেম্বর ক্যাথেই প্যাসিফিক suspension আরও দুই মাস বাড়িয়েছে।
ক্যাথেই প্যাসিফিকের হালনাগাদ travel advisory অনুযায়ী, Dubai (DXB) ও Riyadh (RUH)-এ এয়ারলাইনটির নিজস্ব পরিচালিত passenger services ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বাতিল থাকবে।
এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নির্দেশনায় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিতের কথা বলা হয়েছিল। ওই সময়ও সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছিল ক্যাথেই।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য flexible ticket arrangement চালু রেখেছে ক্যাথেই প্যাসিফিক।
যোগ্য বুকিংয়ের ক্ষেত্রে যাত্রীরা rebooking, rerouting অথবা refund-এর সুযোগ পাবেন। এয়ারলাইনটির সর্বশেষ শর্ত অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর বা তার আগে ইস্যু করা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভ্রমণের যোগ্য টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফি মওকুফ করা হচ্ছে।
তবে নতুন itinerary-তে মূল টিকিটের তুলনায় ভাড়া বা কর বেশি হলে সেই পার্থক্য যাত্রীকে পরিশোধ করতে হতে পারে। নতুন ফ্লাইটে আসন পাওয়ার বিষয়টিও availability-এর ওপর নির্ভর করবে।
ক্যাথেই প্যাসিফিকের flexible ticket policy-তে Dubai ও Riyadh-এর পাশাপাশি Doha (DOH)-ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে দোহার ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা।
দুবাই ও রিয়াদে ক্যাথেই প্যাসিফিকের নিজস্ব passenger flights বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে দোহাসংক্রান্ত flexible arrangement মূলত Cathay Pacific-issued এবং Cathay Pacific-marketed ticket-এর জন্য প্রযোজ্য।
ফলে দুবাই ও রিয়াদের নিজস্ব ফ্লাইট suspension-এর সঙ্গে দোহার ticket arrangement-কে একই ধরনের operational cancellation হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
ক্যাথেই প্যাসিফিকের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
গত ৩০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারক দ্বীপে দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা Reuters-কে নিশ্চিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরানের Revolutionary Guards ওই স্থাপনা থেকে Strait of Hormuz এলাকায় রকেট ও sea mine ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দেয়।
তবে বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত শুধু ওই হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছে—এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ২০২৬ সালের সংঘাত এর আগেই শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও নতুন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
দুবাই ও রিয়াদের বিমানবন্দর সচল থাকলেও কোনো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত শুধু destination airport-এর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে না।
একটি long-haul flight-এর ক্ষেত্রে পুরো route-এর airspace risk, missile ও drone activity, air-defence operation, NOTAM, বিকল্প বিমানবন্দর, diversion capability এবং crew ও aircraft positioning বিবেচনা করতে হয়।
বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি airspace এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হলে flight time ও fuel consumption বাড়তে পারে। একই সঙ্গে crew duty time এবং aircraft scheduling-এও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
ফলে কোনো দেশের বিমানবন্দর খোলা থাকলেও একটি এয়ারলাইন নিজস্ব risk assessment-এর ভিত্তিতে সেখানে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে পারে।
চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের aviation connectivity-তে বড় প্রভাব ফেলেছে। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ ইরানসংক্রান্ত বিমান যোগাযোগে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সময়ে ইয়েমেন ও সৌদি আরব ঘিরেও নতুন করে missile ও drone activity দেখা গেছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনগুলোকে কখনো নির্দিষ্ট আকাশসীমা এড়িয়ে দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো গন্তব্যের ফ্লাইটই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
Cathay Pacific-এর Dubai ও Riyadh suspension-এর মেয়াদ প্রথমে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও এখন জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্তও এই দীর্ঘস্থায়ী operational uncertainty-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দুবাই বা রিয়াদে ক্যাথেই প্যাসিফিকের টিকিট থাকা যাত্রীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো booking status ও বিকল্প itinerary যাচাই করা।
কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এয়ারলাইনটি নিজেও জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে ৩১ জানুয়ারির আগেও পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে অথবা suspension আরও বাড়ানো হতে পারে।
বর্তমান ঘোষণা অনুযায়ী, Cathay Pacific-এর Dubai ও Riyadh passenger flights ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বাতিল থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগ্য যাত্রীদের rebooking, rerouting ও refund-এর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: Cathay Pacific ও Reuters
মন্তব্য করুন