এভিয়েশন বার্তা ডেস্ক
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শুধু যাত্রী ও ব্যাগেজ স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন, সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার মানসিকতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নিরাপত্তা সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘Security Culture in Aviation-5’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিমানবন্দরের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় সিভিল এভিয়েশন একাডেমি এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডোর মো. আসিফ ইকবাল, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আহমাদ আলমগীর এবং সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী।
কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিভিল এভিয়েশন একাডেমির ইনস্ট্রাক্টর (নিরাপত্তা) মো. রিজওয়ান মাহমুদ।
কর্মশালায় বিমানবন্দরে শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা চর্চা, সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষকরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ ও ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
আধুনিক বিমানবন্দরে CCTV, access control, passenger screening বা অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি কার্যকর security culture-এর ক্ষেত্রে জনবলের সচেতনতা ও নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি শনাক্ত করা, নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার মতো বিষয়গুলো সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে সহায়তা করে।
এভিয়েশন খাতে ‘Security Culture’ বলতে একটি প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মপরিবেশ ও আচরণগত চর্চাকে বোঝানো হয়, যেখানে নিরাপত্তাকে শুধু নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৈনন্দিন দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী, বিমান, ব্যাগেজ, কার্গো এবং সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের মতো বিভিন্ন কার্যক্রম একই সময়ে পরিচালিত হয়। ফলে নিরাপত্তার কোনো একটি স্তরে দুর্বলতা তৈরি হলে তা সামগ্রিক বিমানবন্দর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিমানবন্দরে কর্মরত জনবলকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
বেবিচক জানিয়েছে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে এ ধরনের প্রশিক্ষণ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
নিরাপদ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অবকাঠামো ও প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ও সচেতন জনবল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নিয়মিত security culture training বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)
মন্তব্য করুন